বাংলাদেশে অন্তত তিন মাসের ডিজেল মজুদ রাখার সক্ষমতা থাকলেও সংকটকালীন পরিস্থিতির জন্য আগাম প্রস্তুতি পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বরং চলতি অর্থবছরে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম আমদানি হওয়ায় দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি ডিজেল সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
দেশের জ্বালানি ব্যবস্থায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ডিজেল। মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশই পূরণ হয় এই জ্বালানি দিয়ে। প্রতিদিন প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টন ডিজেলের প্রয়োজন হয়, যা পণ্যবাহী ট্রাক ও লরি, দূরপাল্লার বাস, শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন, সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল এবং ট্রেন পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়। কৃষি খাতে সেচ ব্যবস্থাও ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ডিজেলের ওপর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজেলের মজুদ ফুরিয়ে গেলে শিল্পকারখানা, আমদানি-রপ্তানি, কৃষি উৎপাদনসহ পুরো অর্থনীতির কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। বিদ্যুৎ উৎপাদনেও সমস্যা তৈরি হয়ে লোডশেডিং বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশে প্রকৃত মজুদ সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, দেশের মজুদাগার বাড়ানো এবং ডিজেলের মজুদ সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে। পাশাপাশি অন্তত তিন থেকে ছয় মাসের জ্বালানি মজুদ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, দেশে তেল মজুদের সক্ষমতা প্রায় ৮ লাখ টন। তবে বিভিন্ন গবেষণায় বলা হচ্ছে, সরকারের মোট মজুদ সক্ষমতা প্রায় ৩০ লাখ টন পর্যন্ত হতে পারে।
বিপিসি সাধারণত বছরে দুই দফায় জ্বালানি তেল আমদানি করে। পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানির ডিপো এবং ইস্টার্ন রিফাইনারির সক্ষমতা অনুযায়ী সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা গেলে আমদানি বন্ধ থাকলেও অন্তত তিন মাস দেশের চাহিদা মেটানো সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) অধ্যাপক ড. মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, ২০২৩ সালে বাংলাদেশ প্রায় ৫০ লাখ ৭০ হাজার টন ফিনিশড ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল, কেরোসিন ও জেট এ–১ আমদানি করেছে এবং সাধারণত তিন মাসের বাফার মজুদ রাখা হয়।
তবে চলতি অর্থবছরের শুরুতে সরকার তুলনামূলক কম জ্বালানি তেল আমদানি করেছে। প্রথম ছয় মাসে ২৬ লাখ টন আমদানির লক্ষ্য থাকলেও বাস্তবে এসেছে প্রায় ১৪ লাখ টন।
ড. আমিরুল ইসলামের দাবি, এভাবে বাফার মজুদ কমে যাওয়ায় ভবিষ্যতে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হতে পারে এবং এর প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপর পড়তে পারে।
এদিকে ডিজেলের চাহিদা পূরণে ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল আগের সরকারের সময়ে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই পাইপলাইন ব্যবহার করে অতিরিক্ত ৫০ হাজার টন ডিজেল আমদানি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান সরকার।





