ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির। সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে তিনি ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা ভোট দেয়ার সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রক্তাক্ত ইতিহাস ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটকে বিবেচনায় নেন।
স্ট্যাটাসে নাছির লেখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধুমাত্র একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, এটি বাংলাদেশের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তচিন্তার প্রাণকেন্দ্র। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর প্রথম হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল এই বিশ্ববিদ্যালয়। রোকেয়া হলের নারী শিক্ষার্থীদের ওপর পাশবিক নির্যাতন, মধুর ক্যান্টিনে মধুদাসসহ জগন্নাথ হল ও অন্যান্য আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের নির্মম হত্যাকাণ্ড এবং একাধিক শিক্ষকের শহীদ হওয়ার ঘটনা তুলে ধরেন তিনি।
তিনি বলেন, ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু শিক্ষককে হত্যা করা হয়—তাদের মধ্যে ছিলেন দর্শনের গোবিন্দ চন্দ্র দেব, বাংলা সাহিত্যের মুনির চৌধুরী ও আনোয়ার পাশা, ইতিহাসের আবুল খায়ের, ইংরেজি সাহিত্যের জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা প্রমুখ। এই হত্যাকাণ্ড পরিচালনায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগী হিসেবে ইসলামি ছাত্রসংঘ এবং তাদের সামরিক শাখা আল-বদর সক্রিয় ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নাছির উদ্দিন সতর্ক করে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঐতিহাসিকভাবে একটি মুক্তচিন্তার ও প্রগতিশীল ক্যাম্পাস। এখানে যেন কোনো গোষ্ঠী ‘মোরাল পুলিশিং’ চালাতে না পারে, নারীদের পোশাক ও চলাফেরার স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে না পারে, সেই বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, “ঢাবি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতীক। ধর্ম, বর্ণ, জাতি নির্বিশেষে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত।”
ছাত্রদলের অবস্থান ব্যাখ্যা করে নাছির বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি মুক্ত, গণতান্ত্রিক ও জবরদখলমুক্ত ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। গেস্টরুম, গণরুম, ছাত্রনির্যাতন, ও একচেটিয়া দখলের রাজনীতি নির্মূলে ছাত্রদল কাজ করবে। এরইমধ্যে ছাত্রদল একটি সুনির্দিষ্ট নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে, যেখানে শিক্ষার্থীদের খাদ্য, আবাসন, পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা ও ক্যারিয়ার উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে।
নাছির উদ্দিন বলেন, “আমাদের মনোনীত প্রার্থীরা হলো ফ্যাসিবাদবিরোধী, শিক্ষার্থীস্বার্থে আপসহীন, মেধাবী ও উদারনৈতিক গণতন্ত্রে বিশ্বাসী একঝাঁক তরুণ। আপনারা যেন তাদের পক্ষে মূল্যবান ভোট দিয়ে ঢাবিকে একটি গণতান্ত্রিক, মুক্ত ও প্রগতিশীল শিক্ষাঙ্গনে রূপান্তর করেন, সেই আহ্বান জানাচ্ছি।”
ডাকসু নির্বাচন নিয়ে এই বার্তায় নাছির উদ্দিন স্পষ্ট করেছেন যে, এটি শুধুমাত্র একটি নির্বাচন নয়—এটি ইতিহাস, চেতনা ও ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়বদ্ধতার মুহূর্ত।





