ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে গুরুতর অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগ তুলেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল (ছাত্রদল) সমর্থিত প্যানেল।

রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্যানেলের সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান এ অভিযোগগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিলেও প্রশাসনের ব্যর্থতা ও কিছু গোষ্ঠীর হস্তক্ষেপে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। হাজারো শিক্ষার্থীর ভোটাধিকার প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।”

ছাত্রদল প্যানেলের ১১টি অনিয়মের অভিযোগ:

১. ভোটার তালিকায় স্বাক্ষর ও ব্যালট জালিয়াতি: ভোটাররা উপস্থিত হওয়ার আগেই তালিকায় স্বাক্ষর ও নির্দিষ্ট প্যানেলের পক্ষে ব্যালট সরবরাহ করা হয়েছে। এই বিষয়ে সিসিটিভি ফুটেজ ও ভোটার তালিকা চাওয়া হলেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

২. ব্যালটে নম্বর না থাকায় কারচুপির সুযোগ: ব্যালটে ক্রমিক নম্বর ছিল না এবং ছাপানো ও ব্যবহৃত ব্যালটের হিসাব প্রকাশ করা হয়নি।

৩. গোপনে ব্যালট ছাপানো: নির্বাচনী ব্যালট কোন প্রেসে ছাপানো হয়েছে, তা গোপন রাখা হয়। পরবর্তীতে নীলক্ষেতের এক ছাপাখানায় বিপুল পরিমাণ অরক্ষিত ব্যালট পেপার পাওয়া যায়।

৪. ভোট গণনা প্রক্রিয়া গোপন: ভোট গণনার সফটওয়্যার ও মেশিন যাচাইয়ের বিষয়টি গোপন রাখা হয়, এতে প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

৫. এজেন্ট তালিকা থেকে বাদ: ভোটের আগের রাতে হঠাৎ করে পোলিং এজেন্টদের তালিকা প্রকাশ করে অনেক প্রার্থীকে এজেন্ট নিয়োগ থেকে বঞ্চিত করা হয়।

৬. আইডি কার্ড না দেওয়ায় এজেন্ট প্রবেশে বাধা: সময়মতো এজেন্টদের আইডি কার্ড সরবরাহ না করায় অনেকেই কেন্দ্রে ঢুকতে পারেননি।

৭. ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা পরিবর্তন: ভোটের দিন ৮টি কেন্দ্রের বদলে ১৮টি কেন্দ্রে ভোট হয়, যা অধিকাংশ প্রার্থীর অজানা ছিল।

৮. পোলিং অফিসার নিয়োগে অনিয়ম: চিফ রিটার্নিং অফিসারকে অবহিত না করে সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পোলিং অফিসার নিয়োগ দেয়।

৯. নিরাপত্তাকর্মীদের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ: বিএনসিসি, রোভার স্কাউট ও গার্লস গাইড সদস্যদের সহযোগিতায় বহিরাগতদের কেন্দ্রে প্রবেশের অভিযোগ উঠেছে।

১০. ভোট গণনায় এজেন্টদের অংশগ্রহণ ব্যাহত: বেশিরভাগ পোলিং এজেন্টকে গণনা থেকে দূরে রাখা হয়, তারা রেজাল্ট শিটে স্বাক্ষরও করতে পারেননি।

১১. অস্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ও বলপেন ব্যবহারে বিভ্রান্তি: বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক বুথে মার্কার ফুরিয়ে গেলে ভোটারদের বলপেন ব্যবহার করতে বলা হয়। ওএমআর মেশিনে বলপেনে দেয়া ভোট গণনায় সমস্যা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।


এর আগের দিন (২০ সেপ্টেম্বর) এক আলোচনায় ছাত্রদল প্যানেলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম বলেন,

“যেসব অভিযোগ উঠেছে, তার যথাযথ জবাব যদি প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন দিতে না পারে, তাহলে ২০২৫ সালের ডাকসু নির্বাচন পুনর্বিবেচনার দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে ইনশাআল্লাহ।”