রাণীশংকৈল প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈলে একটি বিয়েকে ঘিরে বিরল ও অস্বাভাবিক অভিযোগ সামনে এসেছে। বাসর রাতে কনে পরিবর্তনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করা হয়। বর্তমানে বর রায়হান কবির কারাগারে রয়েছেন। এই ঘটনায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় চাঞ্চল্য ও কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পীরগঞ্জ উপজেলার চণ্ডিপুর এলাকার যুবক রায়হান কবির ঘটকের মাধ্যমে রানীশংকৈল উপজেলার ভান্ডার এলাকার এক তরুণীকে পছন্দ করেন। উভয় পরিবারের সম্মতিতে নির্ধারিত সময়ে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। বিয়ের রাতেই নবদম্পতি বরপক্ষের বাড়িতে যান।
বরপক্ষের অভিযোগ, বাসর রাতে কনের অতিরিক্ত সাজসজ্জার পরে রায়হান বুঝতে পারেন, বাসরঘরে উপস্থিত কনে আগে দেখা কনের সঙ্গে মিলছে না। বিষয়টি প্রকাশ পেলে দুই পরিবারের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরদিন কনেকে শ্বশুরবাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে পাঠানো হয়।
স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সমঝোতার চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। পরবর্তীতে বিষয়টি আইনি জটিলতায় পরিণত হয়। গত ২৭ আগস্ট কনের বাবা জিয়ারুল হক বরপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পাল্টা হিসেবে ২ সেপ্টেম্বর রায়হান কবির কনের বাবা জিয়ারুল হক ও ঘটকের বিরুদ্ধে পৃথক অভিযোগ দায়ের করেন।
মামলাগুলো বিচারাধীন থাকাকালীন সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রায়হানের জামিন আবেদন নামঞ্জুর হওয়ায় আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
রায়হানের পরিবারের দাবি, ঘটক যে পাত্রী দেখিয়েছিলেন তিনি অন্য ব্যক্তি ছিলেন। বিয়ের সময় পারিবারিক ও সামাজিক চাপের কারণে নতুন করে যাচাইয়ের সুযোগ পাওয়া যায়নি এবং তারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
অন্যদিকে কনের বাবা জিয়ারুল হক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ছেলেপক্ষ আমাদের বাড়িতে এসে আমার মেয়েকেই দেখেছে।” তিনি আরও দাবি করেন, বিয়ের পর ছেলেপক্ষ ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। সময় চাওয়ার বিষয়টি নিয়ে পরিস্থিতি জটিল হয়ে যায় এবং সমঝোতা ভেঙে পড়ে।
ঘটক মোতালেব জানিয়েছেন, তিনি কোনোভাবেই ভিন্ন পাত্রী দেখাননি। তবে ঘটনার পর পরিস্থিতি তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।
ছেলেপক্ষের আইনজীবী ও বার কাউন্সিলের সভাপতি জয়নাল আবেদীন বলেন, কনে পরিবর্তন সংক্রান্ত অভিযোগের সত্যতা আদালতের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে এবং বিচার প্রক্রিয়ার মধ্যেই প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে।





