ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে শেষ পর্যন্ত ক্ষমতাচ্যুত হতে হবে। শুক্রবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।

খামেনি বিদেশি প্রভাবশালী শক্তির বিরুদ্ধে ইরানকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করার অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, “ট্রাম্পের জানা উচিত, রেজা শাহ ও মোহাম্মদ রেজা শাহের মতো বিশ্ব স্বৈরশাসকরা তাদের অহংকারের শিখরে উঠে শেষ পর্যন্ত পতনের মুখে পড়েছিল। তাকেও একদিন সেই পতন ভোগ করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, ইরান কখনো ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে লিপ্তদের কাছে মাথা নত করবে না। এই দেশ হাজারো সম্মানিত মানুষের রক্তের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভ প্রসঙ্গে খামেনি মন্তব্য করেন, বিক্ষোভকারীরা ট্রাম্পকে খুশি করতে এসব করছে। “যদি সে সত্যিই জানত কীভাবে একটি দেশ চালাতে হয়, তাহলে নিজের দেশ ঠিকভাবে পরিচালনা করত। যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই অসংখ্য সমস্যা রয়েছে,” তিনি বলেন।

ইরানের তরুণদের উদ্দেশ্যে খামেনি বলেন, “প্রিয় যুবসমাজ, প্রস্তুতি ও ঐক্য ধরে রাখো। ঐক্যবদ্ধ একটি জাতি যেকোনো শত্রুকে পরাস্ত করতে সক্ষম।”

প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে চলমান বিক্ষোভে সরকারি ভবনে আগুন ধরানোর মতো সহিংসতা ঘটেছে।

নেটব্লকসের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ইরান কর্তৃপক্ষ সারা দেশে সম্পূর্ণ ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেয়। শুক্রবার ভোরে সংস্থাটি জানায়, টানা প্রায় ১২ ঘণ্টা ইরান কার্যত অফলাইনে ছিল।

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সির দাবি, এই অস্থিরতায় অন্তত ৩৪ জন বিক্ষোভকারী ও চারজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন। এছাড়া প্রায় ২,২০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।