ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ সামনে রেখে ঝালকাঠি জেলায় সাংবাদিকদের জন্য পর্যবেক্ষণ কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। তবে কার্ডপ্রাপ্তদের তালিকায় বর্তমানে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের একাধিক সদস্য এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিতর্কিত ব্যক্তিদের নাম থাকায় জেলায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনকালীন পরিবেশ, ভোটকেন্দ্রের পরিস্থিতি এবং জনমতের ধারা পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্যে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এসব কার্ড দেওয়া হয়। কিন্তু তালিকায় ঝালকাঠির শেখেরহাট ইউনিয়ন ছাত্রলীগের একজন সদস্যের নাম পাওয়া গেছে, যিনি ২০১৯ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এ ছাড়া নব্য সাংবাদিকের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতা, ঠিকাদার, বালু ব্যবসায়ী ও রেন্ট-এ-কার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নামও তালিকায় থাকায় প্রকৃত সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এদিকে বিজয় টিভির মাসুম খান, বাংলা টিভির আবু সায়েম আকন, এটিএন বাংলার নাসির উদ্দীন আকাশ এবং জাতীয় অর্থনীতি পত্রিকার রিয়াজ মোর্শেদসহ একাধিক সংবাদকর্মী পর্যবেক্ষণ কার্ড পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে। জেলার চার উপজেলায় প্রায় ৩০০ জন সাংবাদিক থাকলেও তাদের মধ্যে ২৩৭ জনকে কার্ড দেওয়া হয়েছে।

দৈনিক খবরের কাগজ পত্রিকার ঝালকাঠি প্রতিনিধি কামরুজ্জামান সুইট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পর্যবেক্ষক কার্ডকে কেন্দ্র করে নব্য সাংবাদিকদের তৎপরতা বেড়েছে। তালিকায় রাজনৈতিক নেতা, ঠিকাদার ও ব্যবসায়ীদের উপস্থিতি প্রকৃত সাংবাদিকতার জন্য উদ্বেগজনক বাস্তবতা।

কার্ড বিতরণে বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন এশিয়ান টিভির কাঁঠালিয়া প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান সোহাগ। তিনি বলেন, প্রায় দুই দশক আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার বিষয়টি দেখিয়ে তার আবেদন বাতিল করা হয়েছে। অথচ বর্তমানে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সদস্যরা পর্যবেক্ষণ কার্ড পেয়েছেন, যা অসঙ্গতিপূর্ণ ও প্রশ্নবিদ্ধ।

জাতীয় অর্থনীতি পত্রিকার ঝালকাঠি প্রতিনিধি রিয়াজ মোর্শেদ জানান, কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা না থাকা সত্ত্বেও তাকে পর্যবেক্ষণ কার্ড দেওয়া হয়নি।

স্থানীয় সাংবাদিকদের মতে, নির্বাচন পর্যবেক্ষণের মতো সংবেদনশীল দায়িত্বে রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া হলে সাংবাদিকতার নিরপেক্ষতা ও পেশাগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে ঝালকাঠির জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন বলেন, ২৫০ জনের বেশি আবেদন পাওয়ায় স্বল্প সময়ে সবার তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তিনি জানান, কার্ড বিতরণে কোনো অনিয়ম বা বিতর্কিত অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ পাওয়া গেলে তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রকৃত ও পেশাদার সাংবাদিকদের অধিকার নিশ্চিত করাই প্রশাসনের লক্ষ্য বলে তিনি জানান।

এ ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ এটিকে প্রশাসনিক দুর্বলতা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ রাজনৈতিক প্রভাব ও সুযোগসন্ধানীদের সক্রিয়তার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।