জয়পুরহাট সদর উপজেলার একটি ছোট্ট গ্রাম বম্বু খানপাড়া। এখানেই গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ে ওঠা মহিউদ্দীন খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)–এর সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে নির্বাচিত হয়ে গড়েছেন অনন্য ইতিহাস। তার এই অর্জনে উচ্ছ্বসিত পুরো জয়পুরহাট—শিক্ষক, সহপাঠী, গ্রামবাসী থেকে শুরু করে জেলাবাসী সবার মুখে এখন একটাই নাম: মহিউদ্দীন খান।
মহিউদ্দীন খান জয়পুরহাট সদর উপজেলার বম্বু ইউনিয়নের বম্বু খানপাড়া গ্রামের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুল মাবুদ খান ও মাসুদা খানম দম্পতির সন্তান। দুই ভাই, এক বোনের মধ্যে তিনি সবচেয়ে ছোট। বড় ভাই ফজলে রাব্বী খান একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করেন এবং বোন নাঈমা খানম গৃহিণী।
২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন মহিউদ্দীন। তার শিক্ষাজীবনের শুরু হয় গ্রামেরই হানাইল নোমানিয়া আলিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে। এখান থেকেই তিনি ২০১৬ সালে দাখিল এবং ২০১৮ সালে আলিম পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেন। এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগে ভর্তি হন (২০১৭-১৮ সেশন)। সেখানে স্নাতকে সিজিপিএ ৩.৯৩ এবং মাস্টার্সে ৩.৯৬ পেয়ে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন।
তার চাচাতো ভাই ও মহুরুল দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. মাহবুবুর রহমান খান শাহিন বলেন, “মহিউদ্দীন ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ও ভদ্র স্বভাবের ছাত্র ছিল। ডাকসু নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সে জয়পুরহাটবাসীর গর্ব হয়ে উঠেছে।”
হানাইল গ্রামের বাসিন্দা ফিরোজ হোসেন বলেন, “মিডিয়া ও সামাজিক মাধ্যমে আমরা জানতে পারি যে, আমাদের এলাকার সন্তান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গায় নেতৃত্ব দিয়েছে। এটা শুধু তার নয়, আমাদের সবার অর্জন।”
হানাইল নোমানিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল হাকিম বলেন, মুহা. মহিউদ্দীন খান আমাদের মাদ্রাসার প্রাক্তন শিক্ষার্থী। সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের এজিএস নির্বাচিত হয়েছে। হানাইল নোমানিয়া কামিল মাদ্রাসার প্রাক্তন কোনো শিক্ষার্থী এ প্রথম ডাকসু নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এজিএস পদে বিজয়ের মুকুট অর্জন করেছেন। এটি জয়পুরহাট জেলাতেও প্রথম। তার এমন কৃতিত্বে আমরা শিক্ষাকরা গর্বিত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে শীর্ষ তিন পদে বিজয়ী হয়েছেন ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল। ভিপি পদে মো. আবু সাদিক (সাদিক কায়েম), জিএস পদে এস এম ফরহাদ ও এজিএস পদে মহিউদ্দিন খান বিজয়ী হয়েছেন।





