নেপালের প্রথাগত রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে সামনে আসছেন কাঠমান্ডুর মেয়র ও সাবেক জনপ্রিয় র‍্যাপার বালেন্দ্র শাহ। ‘বালেন’ নামে পরিচিত এই তরুণ নেতা দেশটির তরুণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়।

রয়টার্স জানিয়েছে, সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বালেন্দ্র শাহ সাবেক টেলিভিশন উপস্থাপক রবি লামিছানের নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টিতে যোগ দিয়েছেন। আগামী ৫ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনের আগে গঠিত এই রাজনৈতিক জোট থেকে বালেন্দ্র শাহকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

গত সেপ্টেম্বরে তরুণদের নেতৃত্বে দেশজুড়ে চলা ‘জেন–জি’ আন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলির পদত্যাগের পর নেপালের রাজনীতিতে যে শূন্যতা তৈরি হয়, এই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তাকে আরও স্পষ্ট করেছে। ওই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কারকির নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।

দলীয় সমঝোতা অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি নির্বাচনে জয়ী হলে বালেন্দ্র শাহ প্রধানমন্ত্রী হবেন এবং রবি লামিছানে দলের শীর্ষ নেতৃত্বে থাকবেন। সেপ্টেম্বরের গণআন্দোলনে উত্থাপিত দুর্নীতিবিরোধী ও সংস্কারমূলক দাবিগুলো বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছেন তারা। ওই আন্দোলনে ৭৭ জন নিহত হন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক বিপিন অধিকারী মনে করেন, তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে এটি রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির একটি সময়োপযোগী ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত। তার মতে, এই জোট প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

নেপালের নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, প্রায় ৩ কোটি জনসংখ্যার দেশটিতে এবারের নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ। সেপ্টেম্বরের আন্দোলনের পর ভোটার তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছেন প্রায় ১০ লাখ মানুষ, যাদের বড় অংশই তরুণ। এই তরুণদের কাছে বালেন্দ্র শাহ একটি প্রতীকী চরিত্র হিসেবে পরিচিত।

আন্দোলনের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বালেন্দ্র শাহের সক্রিয় ভূমিকা তাকে ব্যাপক জনসমর্থন এনে দেয়। যদিও সমালোচকদের দাবি, তিনি আন্দোলনের সময় সরাসরি মাঠে কম উপস্থিত ছিলেন এবং মূলত পর্দার আড়াল থেকেই নেতৃত্ব দিয়েছেন। তবে কাঠমান্ডুর মেয়র হিসেবে তার প্রশাসনিক জনপ্রিয়তা এবং একজন র‍্যাপার হিসেবে সাংস্কৃতিক পরিচিতি তাকে সাধারণ মানুষের কাছে আলাদা গ্রহণযোগ্যতা দিয়েছে।

গত তিন দশক ধরে নেপালের রাজনীতিতে প্রভাবশালী ছিল কে পি শর্মা ওলির নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্ট পার্টি (ইউএমএল) এবং নেপালি কংগ্রেস। বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে বালেন্দ্র শাহ ও রবি লামিছানের জোট এই দুই প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক শক্তির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

তবে নেপালি কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রকাশ শরণ মাহাত এই জোটকে তেমন গুরুত্ব দিতে চাননি। রয়টার্সকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বালেন্দ্র শাহ ও রবি লামিছানেকে ‘বিতর্কিত’ নেতা আখ্যা দিয়ে বলেন, শেষ পর্যন্ত ভোটাররা অভিজ্ঞ ও পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলোকেই বেছে নেবে।

সূত্র: রয়টার্স