বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ চার শতাধিক ছাত্রদল নেতাকর্মীর রক্তে লেখা হয়েছে এই আন্দোলনের ইতিহাস। তাই এটি যতটা বিএনপির, ততটা আর কারও নয়।

শুক্রবার (১৮ জুলাই) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে 'জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থান, শোক ও বিজয় বর্ষপূর্তি' উপলক্ষে আয়োজিত কালো ব্যাজ ধারণ ও মৌন মিছিল শেষে উপজেলা পরিষদের সামনে এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, “এক বছর আগে এই দিনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ফ্যাসিস্ট সরকার পাখির মতো গুলি করে হত্যা করেছে ছাত্রদল, বিএনপি এবং সাধারণ ছাত্র-জনতাকে। সেই হত্যাকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতেই আজ শেখ হাসিনা দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। আর সেই পরিস্থিতি তৈরির পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে বিএনপি।”

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “গত ১৫ বছর ধরে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর চালানো হয়েছে গুম, খুন, হামলা, মামলা ও নির্যাতনের স্টিমরোলার। কিন্তু তারপরও বিএনপি ভাঙেনি, ভীত হয়নি, কোনো প্রলোভনে মাথানত করেনি। আওয়ামী লীগের সঙ্গে আপোষ করে রাজনীতির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেনি।”

আওয়ামী লীগের সাথে আপোষ করা কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সমালোচনা করে রুমিন ফারহানা বলেন, “গত ১৫ বছরে যারা নিজেদের রক্ষা করতে ছাত্রলীগ-যুবলীগের পদে ঢুকে পড়েছে, তারা যেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমানকে নিয়ে কটূক্তি করার দুঃসাহস না দেখায়।”

তিনি আরও বলেন, “বিএনপি জনগণের দল। তাই যারা মনে করে বিএনপিকে দমন করা যাবে, তারা বড় ভুল করছে। জনগণের শক্তিই বিএনপির মূল ভিত্তি।”

সমাবেশে তিনি আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি জানান এবং দেশের মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।