চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের নির্বাচনী মিছিল চলাকালে গাড়ি আটকে যাওয়াকে কেন্দ্র করে জামায়াতের এক নেতার সঙ্গে বিএনপি প্রার্থী হারুনুর রশীদের ছেলে রুবাইয়াত ইবনে হারুন রাফির সংঘর্ষের অভিযোগ উঠেছে।


রোববার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জেলা সদরের পৌর এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় বিএনপি প্রার্থী হারুনুর রশীদ গাড়িতে অবস্থান করছিলেন।


জানা গেছে, আহত আব্দুল আজিজ নুর পৌর ১১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি। অভিযোগ অনুযায়ী, রুবাইয়াত ইবনে হারুন রাফি আব্দুল আজিজের গলা চেপে ধরে তাকে শূন্যে তুলে ধরেন, এতে তার শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। জামায়াত নেতাকর্মীদের দাবি, রুবাইয়াত প্রশিক্ষিত বডি বিল্ডার হওয়ায় এ ঘটনায় আব্দুল আজিজের গলায় গুরুতর আঘাত লাগে।

সদর আসনের জামায়াত প্রার্থী নূরুল ইসলাম বুলবুলের ছোট ভাই লিটিল মাহমুদ জানান, ৯ ও ১১ নম্বর ওয়ার্ডে যৌথ মিছিল চলাকালে বিএনপি প্রার্থীর গাড়ি সামনে পড়ে। গাড়িটি নিরাপদে পার করে দিতে আব্দুল আজিজ দায়িত্ব পালন করছিলেন। মিছিল প্রায় শেষ হওয়ার সময় সাবেক এমপি হারুনুর রশীদের ছেলেসহ চার-পাঁচজন তাকে গলা চেপে ধরে শূন্যে তুলে ধরেন। পরে জামায়াত নেতাকর্মীরা তাকে উদ্ধার করেন।


তিনি আরও বলেন, ঘটনার প্রতিবাদে জামায়াত মিছিল করেছে এবং এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নির্বাচন কমিশনকেও বিষয়টি জানানো হবে।


আহত আব্দুল আজিজ নুর বলেন, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মিছিল চলাকালে বিএনপি প্রার্থী হারুনুর রশীদের গাড়ি সামনে এলে তিনি প্রটোকল দিয়ে গাড়িটি পার করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় গাড়ি থেকে নেমে রুবাইয়াত ইবনে হারুন রাফি প্রায় ২০–২৫ সেকেন্ড তার গলা চেপে ধরে রাখেন। পরে অন্যরা এসে তাকে উদ্ধার করেন।


অভিযোগের বিষয়ে রুবাইয়াত ইবনে হারুন রাফি বলেন, তিনি কাউকে আঘাত করেননি। বরং মিছিলে থাকা লোকজন তাদের গাড়ির দিকে উসকানিমূলক স্লোগান দিচ্ছিল এবং বারবার গাড়িতে আঘাত করছিল। এতে গাড়ির গ্লাস ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। গাড়ির ভেতরে তার বাবা অবস্থান করছিলেন, তাই পরিবারের নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে যান বলে দাবি করেন।


তিনি আরও বলেন, মিছিলে থাকা এক ব্যক্তি প্রকাশ্যে গাড়িকে নিরাপত্তা দেওয়ার ভান করলেও আড়ালে অন্যদের গাড়িতে আঘাত করতে উৎসাহ দিচ্ছিলেন। এ নিয়ে গাড়ি থেকে নামার পর তার সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয়।