শহীদ শরীফ ওসমান হাদির স্মৃতি অমর রাখতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কক্সবাজার শহর শাখার একজন কর্মী নিজের যমজ সন্তানের নাম রেখেছেন ওসমান ও হাদি। রোববার (২১ ডিসেম্বর) রাতে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জামায়াত শাখার কর্মপরিষদ সদস্য আমিনুল ইসলাম হাসান।
যমজ শিশুদের বাবা জহুর আলম কক্সবাজার শহরের টেকপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কক্সবাজার শহর শাখার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের অর্থসম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।
আমিনুল ইসলাম হাসান জানান, দীর্ঘদিনের পরিচিত ও স্নেহের কর্মী জহুর আলম মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে একসঙ্গে দুই পুত্রসন্তানের বাবা হয়েছেন। মা–বাবার সম্মতি নিয়ে শহীদ ওসমান হাদির স্মরণে শিশুদের নামকরণ করা হয়েছে। যমজ শিশুদের একজনের নাম রাখা হয়েছে পুরোনাম হাসান ওসমান, অন্যজনের নাম হোসাইন হাদি।
নামকরণকে সৌভাগ্যের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আধিপত্যবাদবিরোধী বিপ্লবের শহীদ এক বীরের নামে দুই মানবসন্তান সমাজে পরিচিত হবে—এটি আমাদের কাছে গর্ব ও অনুপ্রেরণার বিষয়।”
নবজাতকদের বাবা জহুর আলম বলেন, “শহীদ হাদি শুধু একজন মানুষ নন, তিনি একটি ইতিহাস। আমরা তাকে কখনো ভুলব না। তার নামে আমার সন্তানদের পরিচয় দিতে পারাটা আমার জীবনের বড়ো গর্ব।”
গত শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শহীদ শরীফ ওসমান হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে এ জানাজা সম্পন্ন হয়, ইমামতি করেন তার বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক। এটি দেশের স্মরণকালের অন্যতম বৃহত্তম জানাজা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এর আগে ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স–কালভার্ট সড়কে রিকশায় থাকা অবস্থায় ওসমান হাদির মাথায় গুলি করে মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা। গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন থেকে ছয় দিন পর সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরবর্তী দিন শুক্রবার বিমান বাংলাদেশের ফ্লাইটে তার মরদেহ দেশে আনা হয়।





