জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, “স্থানীয় নির্বাচন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হলে তা সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে।”
বুধবার (২৫ জুন) দুপুরে নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীনের সঙ্গে বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি। সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে জামায়াতের তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনে দেখা করতে আসে। প্রতিনিধিদলে ছিলেন হামিদুর রহমান আযাদ, মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং কর্মপরিষদ সদস্য জসিম উদ্দিন সরকার।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জামায়াতের নিবন্ধন ও তাদের পূর্বের নির্বাচনী প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ ফিরিয়ে দেয় নির্বাচন কমিশন। প্রতীক ও নিবন্ধন বুঝে নেওয়া এবং বিভিন্ন দাবি জানাতেই প্রতিনিধি দল কমিশনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে।
ব্রিফিংয়ে হামিদুর রহমান বলেন, “দলীয় সরকারের অধীনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলে প্রভাব খাটিয়ে দলীয় প্রার্থীদের নির্বাচিত করা হয়, যা অতীতেও দেখা গেছে। আমরা তাই বারবার বলে এসেছি, জাতীয় নির্বাচনের আগে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে স্থানীয় নির্বাচন দিতে হবে।”
তিনি জানান, সব রাজনৈতিক দল একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে এবং সেই সরকারের অধীনে স্থানীয় নির্বাচন হলে প্রকৃত জনমত প্রতিফলিত হবে।
নিবন্ধন ও প্রতীক ফিরে পাওয়ার বিষয়ে জামায়াত নেতা বলেন, “আদালতের রায়ের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন আমাদের নিবন্ধন ও প্রতীক ফিরিয়ে দিয়েছে। এর মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে, তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে অন্যায়ভাবে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করেছিল। এখন আমরা আগের মতো দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে নির্বাচন করতে পারব।”
সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতি (PR) চালুর দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “এটি একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত গণতান্ত্রিক পদ্ধতি। এতে ছোট দলগুলোও প্রতিনিধিত্ব পাওয়ার সুযোগ পায়। আমরা কমিশনের কাছে ১ শতাংশ ভোট পেলে একটি আসনের মতো হিসাব করে আসন বণ্টনের দাবি জানিয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “PR পদ্ধতি চালু হলে কালো টাকা, সন্ত্রাস, মনোনয়ন বাণিজ্য অনেকাংশে বন্ধ হবে। এভাবে একটি নিরপেক্ষ ও ইতিহাসের সেরা নির্বাচন সম্ভব।”
প্রবাসীদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে জামায়াত নেতা বলেন, “বিদেশে কর্মরত প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ বাংলাদেশি নাগরিক বর্তমানে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত। আমরা পোস্টাল, অনলাইনসহ প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতির মাধ্যমে তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছি।”
বর্তমান নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা আছে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে হামিদুর রহমান বলেন, “আমরা সব কিছু পর্যবেক্ষণ করছি। এখনই আস্থা বা অনাস্থার মন্তব্য করছি না। তবে যেখানেই ব্যত্যয় ঘটবে, সেখানে আমরা কথা বলব। আশা করি, কমিশন জনআস্থার জায়গায় দাঁড়িয়ে সামনে এগিয়ে যাবে।”





