কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি: দাঁড়িপাল্লার নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেওয়ায় জামায়াত নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা ও বাড়িঘর ভাঙচুরের  অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। 

গতকাল (৩০ জানুয়ারি) রাত ১০ টায় কুড়িগ্রাম জেলার রাজিবপুর উপজেলার মোহনগঞ্জ ইউনিয়নের কীর্তনতারী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলায় জামায়াত কর্মী মোকছেদ আলী (৩২) ও আছমত আলী (৪৫) নামের দুইজন আহত হয়েছেন।গুরুতর আহত অবস্থায় মোকছেদ আলীকে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

‎স্থানীয় জামায়াত নেতাদের অভিযোগ, শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) মোহনগঞ্জের নয়াচর বাজারের পাশে দাঁড়িপাল্লার নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেয় মোকছেদ আলী ও আছমত আলী। জনসভা শেষে ফেরার পথে কীর্তনতারি বাজার এলাকায় বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মী জামায়াত কর্মীদের উদ্দেশ্যে করে অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও নানা রকম উস্কানিমূলক কথা বলতে থাকে। জামায়াত কর্মীরা এর প্রতিউত্তর করলে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সাইদুর রহমান কালু ও ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি খোরশেদ আলমের নেতৃত্বে জয়নাল, নুরুজ্জামান, লুতফর, রুবেলসহ আরো দশ বারোজন বিএনপি নেতা-কর্মী লাঠিসোঁটা নিয়ে জামায়াত নেতা-কর্মীদের উপর হামলা করে।এতে জামায়াতের মোকছেদ আলী ও আছমত আলী গুরুতর আহত হয়।
পরে তারা আরো সংগঠিত হয়ে ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি আবুল কালাম আজাদের বাড়িতে গিয়ে হামলা চালায় এবং ভাঙচুর করে।



‎‎‎রাজিবপুর উপজেলা জামায়াতের আমির আবুল বাসার মোহাম্মদ আব্দুল লতিফ বলেন, ' এজাবতই প্রশানের পক্ষপাতমূলক আচরণ আমরা লক্ষ করেছি। বিরাজমান এই পরিস্থিতি যদি থাকে তাহলে ফেয়ার এবং ফ্রি নির্বাচন হবে না বলে আমরা মনে করছি এবং আমরা এই পরিবেশ দূর করার জন্য সরকারের কাছে জোড় দাবি করছি। জুলাই অভ্যুত্থান যে জন্য হয়েছিলো যদি ফেয়ার এবং ফ্রি নির্বাচন না হয় আবার সেই ফ্যাসিস্টদের পুর্নবাসন হবে।'

মোহনগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপি'র সভাপতি আজিজুর রহমান মাস্টার বলেন, ' মিটিং শেষে জামায়াতের লোকজন কীর্তনতারী বাজারের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় আমাদের দলের দুই একজন কটুকথা বলেছিলো ওদের উদ্দেশ্য করে।এটা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয় এবং পরে মিমাংসাও হয়। পরে আবার আমাদের ছেলেরা নাকি জামায়াতের ওয়ার্ড সভাপতির বাড়ি বাড়িতে গিয়ে ঘরের টিন ভাঙচুর করেছে এবং দুই একজনকে নাকি কিল ঘুষিও দিয়েছে।
একটা ছেলে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে শুনেছি।আমি জামায়াতের ইউনিয়ন আমিরকে বলেছি মামলা করার দরকার নাই৷ আমি বিষয়টি মিমাংসা করে দেবো।'

রাজিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএফএম শামীম বলেন, ' যারা হামলা করছে তাদের বিরুদ্ধে যেন থানায় মামলা করা হয়। থানার সংশ্লিষ্ট অফিসার কে বলা হয়েছে মামলার প্রেক্ষিতে যেনো কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়।  আগামী  কাল থেকে নির্বাচনী টহল কার্যক্রম শুরু হবে।'