আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ছুটি না পাওয়ার অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হৃদয়বিদারক স্ট্যাটাস দিয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের সদস্য মেহেদি হাসান। তিনি দাবি করেছেন, ছেলের মৃত্যুর মতো চরম ব্যক্তিগত বিপর্যয়ের মধ্যেও দায়িত্ব পালনের অজুহাতে তাকে ছুটি দেওয়া হয়নি।


\r\n

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে মেহেদি হাসান লেখেন, “ছুটি চাইছিলাম, পেলাম না। আমার ছেলেটা মারা গেল। ধন্যবাদ বাংলাদেশ পুলিশ। আমি না থাকলে নির্বাচন আটকে যেত! কী জবাব দেবো বউকে?”

\r\n

এর প্রায় এক ঘণ্টা পর দেওয়া আরেকটি স্ট্যাটাসে তিনি আরও লেখেন, তার স্ত্রী তখনো জানতেন না সন্তানের মৃত্যুর খবর। চিকিৎসকের পরামর্শে বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি লেখেন, সন্তানের জন্য কেনা জিনিসগুলো কী করবেন বুঝতে পারছেন না। একই সঙ্গে তিনি লেখেন, পরদিন তার নাইট ডিউটি রয়েছে এবং সন্তানের মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে তার কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সহায়তা চান।

\r\n

ওই স্ট্যাটাসে নিজের আর্থিক ও পারিবারিক বাস্তবতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। লেখেন, তিনি একজন দরিদ্র পরিবারের সন্তান এবং চাকরিটিই তার জীবিকার একমাত্র অবলম্বন। নিজেকে বাংলাদেশ পুলিশের গর্বিত সদস্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, সন্তান হারানোর শোক নিয়েও তিনি দায়িত্বে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। পাশাপাশি নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও প্রশাসনিক কাজে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরে বিকল্প চাকরির খোঁজ করছেন বলে উল্লেখ করেন।

\r\n

সবশেষ সোমবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া আরেকটি স্ট্যাটাসে সন্তানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন মেহেদি হাসান। সেখানে তিনি লেখেন, “আমার রাজপুত্র চিরনিদ্রায়। আমার কুলে উঠলো না।”

\r\n

স্ট্যাটাস স্থির করে রাখার কথা উল্লেখ করে তিনি লেখেন, দুই কন্যার পর এক পুত্রসন্তান পেয়ে পূর্ণতার অনুভূতি হলেও সেই আনন্দ প্রকাশ করার সুযোগ আর হয়নি। সন্তানের ছবি দেখে আবেগঘন ভাষায় তিনি লেখেন, দীর্ঘ রাত আর সহ্য করতে পারছেন না।

\r\n

উল্লেখ্য, মেহেদি হাসান ২০১৪ সালে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশে কর্মরত। তার বাড়ি ময়মনসিংহ জেলায়।