ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের জন্য গঠিত নির্বাচন কমিশন ও গঠনতন্ত্র সংস্কার নিয়ে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তুলেছেন ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি এস এম ফরহাদ।
\r\nবুধবার (১৮ জুন) রাতে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ডাকসুর গঠনতন্ত্র সংস্কারে ছাত্রদলের প্রস্তাবনাকে অধিক গুরুত্ব দিয়েছে, যেখানে অন্যান্য সংগঠনের যৌক্তিক প্রস্তাব উপেক্ষিত হয়েছে।
\r\nতিনি দাবি করেন, ছাত্রশিবির সময়োপযোগীভাবে নারী ও সমতা বিষয়ক সম্পাদক এবং ধর্ম ও সম্প্রীতি বিষয়ক সম্পাদক পদ সংযোজনের প্রস্তাব দিলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে ছাত্রদলের প্রস্তাবিত একাধিক নতুন সম্পাদকীয় পদ যুক্ত করা হয়েছে।
\r\nনির্বাচন প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা রক্ষায় মেয়াদ শেষে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের নীতিমালা সংযোজনের প্রস্তাবও উপেক্ষিত হয়েছে, বলেন ফরহাদ। এছাড়া তিনি দুঃখ প্রকাশ করে জানান, পাঠাগার ও কমনরুম এবং ক্যাফেটেরিয়া ও ক্যান্টিন বিষয়ক আলাদা দুটি সম্পাদকীয় পদ তৈরির প্রয়োজনীয়তা থাকলেও এবারও তা একটি পদের অধীনে রাখা হয়েছে।
\r\nছাত্ররাজনীতির গুণগত পরিবর্তনের লক্ষ্যে সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণের প্রস্তাবও বাতিল করা হয়েছে, যা নেতৃত্বে সময়োচিত পরিবর্তনের পথে বাধা সৃষ্টি করবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
\r\nশিবির সভাপতির অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনে একটি নির্দিষ্ট শিক্ষক সংগঠনের সংশ্লিষ্টতা থাকা শিক্ষকই বেশি, যা কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন তুলেছে। তিনি বলেন, কমিশন গঠনের পরও নির্বাচনের রোডম্যাপ প্রকাশ হয়নি—এটি অত্যন্ত হতাশাজনক।
\r\nতবে আশার কথা জানিয়ে ফরহাদ বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় যেহেতু দীর্ঘদিনের অচলায়তন ভাঙার উদ্যোগ নিয়েছে, আমরা বিশ্বাস করি বাকি প্রয়োজনীয় সংস্কার নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমেই সম্ভব হবে।”
\r\nতবে একইসঙ্গে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরণ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।





