ভারতের মেঘালয় ও আসামে টানা ভারী বর্ষণ এবং শেরপুরে কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিপাতের ফলে চেল্লাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ১০৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা ও নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

\r\n

মঙ্গলবার (২০ মে) সকাল ১০টায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চেল্লাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার অনেক ওপরে রয়েছে। আগের রাত ১০টায় এই পানি ছিল ৩৯ সেন্টিমিটার ওপরে, যা রাতে কিছুটা কমলেও ভোর থেকে মুষলধারে বৃষ্টি ও উজানে পানিপ্রবাহ বাড়ায় আবারও দ্রুত পানি বেড়েছে।

\r\n

এতে করে ঝিনাইগাতী, নালিতাবাড়ী ও শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্তবর্তী নিম্নাঞ্চলে পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। শেরপুর সদর ও নকলা উপজেলার নিচু এলাকাগুলোর কিছু অংশেও পানি ঢুকে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

\r\n

গত বছরের অক্টোবরে ভয়াবহ বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে না উঠতেই নতুন করে বন্যার আশঙ্কায় উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন জেলার মানুষ। সেই বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় হাজার কোটি টাকা, প্রাণ হারিয়েছিলেন অন্তত ১০ জন।

\r\n

ঝিনাইগাতীর মহারশী নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দা ফুলমতি জানান, “রাতদিন আতঙ্কে থাকি। পানি বাড়ছে, প্রশাসন মাইকিং করছে, কিন্তু আমরা যাব কোথায়?”

\r\n

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর জানিয়েছে, ২০ মে পর্যন্ত জেলার নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হতে পারে। এতে জনজীবনের পাশাপাশি কৃষিখাতেও বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

\r\n

ইতোমধ্যে ঝিনাইগাতী উপজেলার দিঘিরপাড় ফাজিল মাদরাসা সংলগ্ন বাঁধ ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

\r\n

জেলা ও উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবেলায় জরুরি প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং এলজিইডি সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

\r\n

ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রকৌশলী শুভ বসাক বলেন, “ভবিষ্যতের সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রতিরক্ষামূলক কাজের জন্য প্রস্তুতি রয়েছে।”
\r\nপানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আখিনুজ্জামান জানান, “গত বছরের ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলোতে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পরিস্থিতি খারাপ হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণে আমরা প্রস্তুত।”

\r\n

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, “ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে মাইকিং করে জনগণকে সতর্ক করা হচ্ছে। প্রয়োজনে আশ্রয়কেন্দ্র খুলে দেয়া হবে।”

\r\n

এদিকে, জেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, জেলায় প্রায় ৯৪ শতাংশ পাকা ধান কাটা শেষ হয়েছে। তবে সোমেশ্বরী নদীর তীরবর্তী এলাকায় প্রায় ৫ একর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দ্রুত বাকি ধান কেটে নিরাপদ স্থানে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

\r\n

জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তবে উজানে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।