জয়পুরহাটের আলোচিত গণধর্ষণ মামলার এজাহারভুক্ত দীর্ঘদিনের পলাতক আসামি মহিমকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। র‌্যাব-৫ ও র‌্যাব-১-এর যৌথ অভিযানে রাজধানীর তুরাগ থানার বাউনিয়া এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।


র‌্যাব সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার (১৯ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে অভিযান চালিয়ে মহিম (২২) নামের ওই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি জয়পুরহাট জেলার ক্ষেতলাল থানার ভাসিলা নাপিতপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং মো. আব্দুল মান্নানের ছেলে।


র‌্যাব জানায়, মামলার ভিকটিম জয়পুরহাট জেলার ক্ষেতলাল থানার গুচ্ছগ্রাম মনঝার এলাকার বাসিন্দা মো. বেলাল ফকিরের মেয়ে। তিনি স্বামীর সঙ্গে ক্ষেতলাল উপজেলার বড়াইল ইউনিয়নের সমাজকল্যাণ মোড় এলাকায় বসবাস করতেন। স্বামী-স্ত্রী দুজনই নাচ-গানসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।


তদন্তে জানা যায়, একটি নাচগানের অনুষ্ঠানের চুক্তিকে কেন্দ্র করে সুমন, সাইফুল ও মহিমের সঙ্গে পারিশ্রমিক সংক্রান্ত বিরোধ সৃষ্টি হয়। অনিবার্য কারণে অনুষ্ঠানটি বাতিল হওয়ায় ওই বিরোধের সূত্রপাত ঘটে।


এর ধারাবাহিকতায় গত ৩০ নভেম্বর ২০২৫ রাতে ভিকটিম ও তার স্বামী ওষুধ কিনে ভ্যানে করে বাড়ি ফেরার পথে ক্ষেতলাল থানার ইটাখোলা টেকনিক্যাল কলেজের সামনে পৌঁছালে অভিযুক্তরা তাদের পথরোধ করে। ভ্যানচালককে ভয়ভীতি দেখিয়ে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে ভিকটিম ও তার স্বামীকে জোরপূর্বক একটি ফাঁকা স্থানে নিয়ে গিয়ে ভিকটিমের স্বামীকে মারধর করে বেঁধে রাখা হয় এবং ভিকটিমকে নির্যাতন করা হয়। ঘটনার পর অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।


পরদিন ১ ডিসেম্বর ২০২৫ ভিকটিম ক্ষেতলাল থানায় মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩) এর ৯(৩) ধারায় মামলা রুজু করা হয়।


মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে র‌্যাব-৫ সিপিসি-৩ এবং র‌্যাব-১ উত্তরা সদর কোম্পানির যৌথ অভিযানে দীর্ঘদিন পলাতক থাকা মহিমকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। তাকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থার জন্য জয়পুরহাট জেলার ক্ষেতলাল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।


র‌্যাব জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।