যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আজ আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের আলোচনায় বসছে। ওমানের রাজধানী মাস্কাটে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নেবেন।


\r\n

গত মাসে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমন ও সহিংস পদক্ষেপের কারণে মার্কিন প্রতিক্রিয়ার পর এই আলোচনা শুরু হচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছে, বিক্ষোভে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, এবং ৫০ হাজারের বেশি গ্রেফতার হয়েছেন।


\r\n

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত ও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ হ্রাসের দাবি করেছে। এছাড়া তারা ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন এবং নাগরিকদের প্রতি আচরণের বিষয়টিও আলোচনার অংশ হওয়া উচিত বলেছে। ইরান অবশ্য বলেছে, আলোচনা কেবল পারমাণবিক কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।


\r\n

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করবেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।


\r\n

চলমান উত্তেজনার মধ্যে দুই দেশই সামরিক প্রস্তুতি অব্যাহত রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্র পূর্বে এই অঞ্চলে হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করেছে, এবং ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন যে চুক্তি না হলে ইরানের ওপর সামরিক হামলা হতে পারে। ইরানও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তারা হামলার জবাবে প্রতিরোধ করবে এবং মার্কিন সামরিক লক্ষ্যগুলোর ওপর আঘাত করতে পারে।


\r\n

বিশ্লেষকরা বলছেন, ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর থেকে ইরানের বর্তমান সরকার এখন সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। আর্থিক সংকট ও বিক্ষোভের মধ্যেই এই আলোচনার লক্ষ্য হলো, পারমাণবিক ইস্যুতে কিছু সমাধান বের করা এবং বড় ধরনের সামরিক সংঘাত এড়ানো।


\r\n

ইরান আশা করছে, আলোচনার মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সংকট কিছুটা প্রশমিত হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আলোচনাকে পারমাণবিক ইস্যুর বাইরে গেলে ‘অর্থপূর্ণ কিছু’ অর্জন করা সম্ভব হতে পারে।


\r\n

প্রাথমিকভাবে বৈঠক ইস্তাম্বুলে হওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও শেষ মুহূর্তে ইরানের অনুরোধে এটি ওমানে আয়োজন করা হয়েছে।

\r\n

সূত্র: বিবিসি বাংলা