শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের সংঘর্ষের ঘটনার পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক আটকে বিক্ষোভ করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির। সংঘর্ষের ঘটনায় আজ সকালে চট্টগ্রাম-নাজিরহাট রেলপথ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট থেকে হাটহাজারী যাওয়ার সড়কটি অবরোধ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষের ঘটনায় সকাল ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক আটকে বিক্ষোভ শুরু করেন ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা। এ সময় তাঁরা তিনটি দাবি জানান। দাবির মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার, ঘটনার সূত্রপাতের সিসিটিভি ফুটেজ দেওয়া ও নিরাপত্তাচৌকি বসানো। এ সময় শাখা ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক ইসহাক ভূঞা বলেন, ‘গতকাল রাতে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার সময় প্রশাসন কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মীকে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে ঘুরে চলে যায়। এতে শিক্ষার্থীরা আরও বেশি হামলার শিকার হয়।’ তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘হামলার সময় প্রশাসন কোথায় ছিল? প্রশাসন শিক্ষার্থীদের জন্য কী নিরাপত্তা দিয়েছে?’

বেলা ১১টার দিকে সেখানে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, সহ-উপাচার্য ও প্রক্টর। তাঁরা বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীদের দাবি পূরণের আশ্বাস দেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ সংঘর্ষের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, গতকাল বিষয়টি জানার পর নিরাপত্তাপ্রধান আবদুর রহিম, সহকারী প্রক্টর কোরবান আলী ও নাজমুল হোসেইনসহ তিনজন নিরাপত্তাকর্মী ঘটনাস্থলে যান। পরে প্রক্টরের গাড়ি স্থানীয় বাসিন্দারা ভেঙে দেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাহায্য চেয়েও সময়মতো পাওয়া যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন খান বলেন, ‘ঘটনার পর আমরা প্রক্টরিয়াল বডির কেউ এখন পর্যন্ত ঘুমাইনি। অনেকে বলছে আমাদের শিক্ষার্থীরা কেন (গ্রামের) ভেতরে গিয়েছেন। আমরা দেখলাম, অনেক শিক্ষার্থী সেখানে থাকেন, তাঁদের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য অন্য শিক্ষার্থীরা সেখানে যান। গতকাল আমরা পুলিশের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেছি, আমি নিজে ৩০ বার কল করেছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতার বলেন, ‘নিরাপত্তার বিষয়টি আমাদের অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক সমস্যা। আমরা কিছুদিন আগে হাটহাজারী থানায় সাহায্য চেয়েছিলাম, তারা বলেছে পর্যাপ্ত বাহিনী নেই। আমরা এই ব্যাপারে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের জানাব।’