চট্টগ্রাম নগরীতে ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে পরিচিত একজনকে স্বেচ্ছাসেবক দলের ওয়ার্ড কমিটির আহ্বায়ক করায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা। বিষয়টি ঘিরে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিলসহ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।


জানা গেছে, চট্টগ্রাম মহানগরের ৯ নম্বর উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক করা হয়েছে শহীদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে। অথচ স্থানীয়রা জানান, তিনি বিএনপি কিংবা এর সহযোগী সংগঠনের কোনো কর্মসূচিতে কখনো অংশ নেননি। বরং তিনি এলাকায় ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবেই পরিচিত।


বৃহস্পতিবার রাতে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী ও সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান চট্টগ্রাম মহানগরের অধীন ১৫ থানার পূর্ণাঙ্গ এবং ১২টি ওয়ার্ডের আংশিক আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন করেন। এ সময় ৯ নম্বর ওয়ার্ডেও আহ্বায়ক হিসেবে শহীদুল ইসলামের নাম ঘোষণা করা হয়।


এর প্রতিবাদে পরদিন শুক্রবার উত্তর পাহাড়তলী এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেন স্থানীয় বিএনপি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা। তাঁরা ‘স্বৈরাচারের দোসরদের’ কমিটি থেকে বাদ না দিলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন। আজ সোমবার বিকেলেও সেখানে কর্মসূচি রয়েছে।


আকবর শাহ থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাছির আহমেদ বলেন, \"যারা দলে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, মামলা-হামলার শিকার হয়েছেন, তাদের বাদ দিয়ে এমন একজনকে আহ্বায়ক করা হয়েছে, যাকে এলাকায় কেউ বিএনপির কর্মী বলেও চেনে না। বরং ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তাঁর বহু ছবি ও ভিডিও রয়েছে।\" তিনি প্রতিবাদস্বরূপ থানা কমিটি থেকেও পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে জানান।


৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক রেহান উদ্দীন বলেন, \"স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটিতে যাঁর নাম এসেছে, তাঁকে কখনো বিএনপির কোনো কর্মসূচিতে দেখা যায়নি। এলাকাবাসীও তাঁকে ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবেই জানে। বিষয়টি আমরা নগর ও কেন্দ্রীয় নেতাদের জানিয়েছি।\"


ওয়ার্ডের দীর্ঘদিনের সক্রিয় স্বেচ্ছাসেবক দলকর্মী মোহাম্মদ রনি বলেন, \"আমি বহুদিন ধরে দলের মিছিল-মিটিংয়ে সক্রিয় ছিলাম, মামলার আসামিও হয়েছি। অথচ কমিটিতে স্থান পেয়েছেন একজন ছাত্রলীগ কর্মী। এতে আমি গভীরভাবে মর্মাহত।\"


এ বিষয়ে জানতে চাইলে সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শহীদুল ইসলাম দাবি করেন, \"আমি এলাকায় থাকতাম না, তাই অনেকেই চেনেন না। তবে নগরের মিছিল-সমাবেশে ছিলাম। ছাত্রলীগ বা আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। যেসব ছবি ছড়িয়েছে, সেগুলো সামাজিক অনুষ্ঠানে তোলা।\"


এ বিষয়ে নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব জমির উদ্দিন বলেন, \"বিষয়টি গুরুত্বসহকারে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। অনেকগুলো কমিটি একসঙ্গে ঘোষণার সময় ভুলবশত এমনটি হয়ে থাকতে পারে। প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বাদ দেওয়া হবে।\"