টানা দুই বছরের ইসরায়েলি হামলায় গাজা উপত্যকা ভয়াবহ মানবিক সংকটে পড়েছে। ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা এতটাই ব্যাপক যে, পুনর্গঠন ও পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া বহু বছর ধরে চলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সংঘাতের ফলে গাজার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে হাজারো মানুষের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের প্রয়োজন। এ অবস্থায় ৩৮টি হাসপাতাল ও বহু স্বাস্থ্যকেন্দ্র ধ্বংস বা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চিকিৎসা পাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

গাজায় এখন দুর্ভিক্ষ চরমে। জাতিসংঘের হিসেবে, প্রতি চারটি শিশুর মধ্যে একজন তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে। পানীয় জলের সংকটও মারাত্মক। পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার বড় অংশ ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় ৯৬ শতাংশ পরিবার প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় পানি পাচ্ছে না।

আবাসন খাতেও বিপর্যয় নেমে এসেছে। প্রায় ৩ লাখ বাড়িঘর ধ্বংস হওয়ায় লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে আশ্রয়হীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।

ধ্বংসের ছাপ পড়েছে শিক্ষা ব্যবস্থায়ও। ৬৭০টি স্কুল এবং ১৬৫টি বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। এর ফলে গাজার শিশু ও তরুণ প্রজন্মের শিক্ষার ভবিষ্যৎ মারাত্মকভাবে ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি গাজার মানুষের জন্য এক অন্ধকার ও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দিচ্ছে—যেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানো সহজ হবে না।