ইসরায়েলের সর্বশেষ বিমান ও স্থল হামলায় ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় আরও ৫৯ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার (১৬ জুন) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে। নিহতদের মধ্যে অন্তত ১৭ জন ছিলেন বিতর্কিত গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) পরিচালিত একটি ত্রাণকেন্দ্রে খাবার নিতে আসা মানুষ।
\r\nপ্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ক্ষুধার্ত মানুষগুলোকে কোনো ধরনের পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই লক্ষ্য করে গুলি চালায় ইসরায়েলি বাহিনী।
\r\nআলজাজিরা আরও জানায়, দক্ষিণ গাজার বিভিন্ন স্থানে চালানো হামলায় অন্তত ১০ জন ত্রাণপ্রার্থী নিহত হন। এসব হামলায় আহত হয়েছেন আরও ৫০ জনের বেশি, যাদের অনেককে রাফার রেড ক্রস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
\r\nরোববারও দক্ষিণ গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় প্রাণ হারান ১২ জন ফিলিস্তিনি। গাজার উত্তরের বেইত লাহিয়ায় দলবদ্ধ ফিলিস্তিনিদের ওপর গুলি চালানো হলে নিহত হন আরও সাতজন।
\r\nমধ্য গাজার নুসাইরাত শরণার্থী শিবিরে একটি আবাসিক ভবনে চালানো হামলায় নিহত হয়েছেন অন্তত আটজন। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, ওই হামলায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
\r\nআল-আওদা হাসপাতালের চিকিৎসকরা আলজাজিরাকে জানান, রোববার নেটজারিম করিডোরের কাছে একটি জিএইচএফ ত্রাণকেন্দ্রে খাবারের জন্য আসা মানুষদের ওপর গুলি চালালে অন্তত তিনজন নিহত ও অনেকেই আহত হন।
\r\nআলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্য গাজার দেইর এল-বালাহ থেকে সাংবাদিক তারেক আবু আজ্জুম জানিয়েছেন, “স্থানীয়রা আমাদের বলেছে, ক্ষুধার্ত জনতাকে কোনো সতর্কতা না দিয়েই গুলি চালানো হয়েছে, যার ফলে বহু বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়েছেন।”
\r\nআহমেদ আল-মাসরি নামের এক ফিলিস্তিনি বলেন, “খাবার দেওয়ার কথা বলে আমাদের ত্রাণকেন্দ্রে ডেকে এনে সেখানে গুলি চালানো হয়েছে। এটি ছিল একটি ফাঁদ।”
\r\nগাজার মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে। প্রতিদিনই বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা ও খাদ্য সংকট, যার ফলে বেসামরিক জনগণের জীবন এখন চরম অনিশ্চয়তায়।





