গাজা অভিমুখী ত্রাণবাহী ফ্লোটিলাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার পর এতে থাকা ইতালীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি নৌবাহিনীর রণতরি পাঠিয়েছে ইতালি।
বুধবার দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইডো ক্রোসেত্তো জানান, তিনি প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে আলোচনার পরপরই নৌবাহিনীর বহুমুখী যুদ্ধজাহাজ 'ফাসান'-কে ঘটনাস্থলে পাঠানোর অনুমোদন দেন। এ যুদ্ধজাহাজটি এর আগে ক্রিট দ্বীপের উত্তরে ‘অপারেশন সেফ সি’র আওতায় টহল দিচ্ছিল। এখন এটি ফ্লোটিলাটির সহায়তায় সম্ভাব্য উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে এগিয়ে যাচ্ছে।
ফ্লোটিলার আয়োজক ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ জানিয়েছে, গ্রিস উপকূলে যাত্রার সময় মঙ্গলবার রাতে তাদের চারপাশে এক ডজনের বেশি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এ সময় ‘অজ্ঞাত বস্তু’ ডেকে পড়লে নৌকাগুলোর কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্তোনিও তাজানি জানিয়েছেন, ফ্লোটিলায় থাকা ইতালীয় নাগরিকদের—যাদের মধ্যে সংসদ সদস্য ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরাও রয়েছেন—নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ইতোমধ্যে তেল আবিবে অবস্থিত ইতালীয় দূতাবাসকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে এবং ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষকে আবারও অনুরোধ জানাতে, যেন ফ্লোটিলার সদস্যদের ‘পূর্ণ নিরাপত্তা’ নিশ্চিত করা হয়।
তারা আরও জানায়, ইসরায়েলকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে—যেকোনো অভিযান আন্তর্জাতিক আইন এবং সর্বোচ্চ সতর্কতা অনুসরণ করে চালাতে হবে।
গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা চলতি মাসের শুরুতে স্পেনের বার্সেলোনা থেকে যাত্রা শুরু করে। তাদের উদ্দেশ্য—ইসরায়েলের আরোপিত অবরোধ ভেঙে গাজায় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছানো। বর্তমানে ফ্লোটিলার ৫১টি নৌযানের বেশির ভাগই গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের কাছাকাছি অবস্থান করছে।
এর আগে তিউনিসিয়ায় অপেক্ষমাণ ফ্লোটিলার আরও কয়েকটি নৌযানও সন্দেহভাজন ড্রোন হামলার শিকার হয়। সুইডিশ জলবায়ু আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থানবার্গ-ও উত্তর আফ্রিকায় এই অভিযানে যোগ দেন।
ইসরায়েল ইতোমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে, এই ফ্লোটিলাকেও গাজায় ঢুকতে দেওয়া হবে না—যেমনটি তারা গত জুন ও জুলাই মাসেও করেছে।





