গণঅভ্যুত্থান সফল না হলে হাজারো শহীদ পরিবার, আহত আন্দোলনকারীদের ‘জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে নির্মম নির্যাতনের শিকার হতে হতো— এমন মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।
শনিবার (১৯ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবে গণতন্ত্র মঞ্চ আয়োজিত \"জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি ও উত্তরণ\" বিষয়ক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বাবলুর সভাপতিত্বে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, “গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ৯৮ শতাংশ মানুষের নাম কেউ জানে না, জানার আগ্রহও দেখায় না। অথচ তাদের রক্ত-ঘাম-আত্মত্যাগেই এই আন্দোলন সফল হয়েছে। আমরা বারবার কিছু নেতার গল্প শুনি, কিন্তু বাকি বিপুল সংখ্যক মানুষ থেকে যান আড়ালে।”
তিনি স্মরণ করেন ২০২৪ সালের ১৯ এপ্রিল গণতন্ত্র মঞ্চ ও এবি পার্টির যৌথ বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের হামলার কথা। আবেগভরে তিনি বলেন, “প্রতিটি অংশগ্রহণকারীর একটি গল্প আছে—আঘাত, ত্যাগ, আতঙ্ক আর বেঁচে থাকার সংগ্রামের গল্প। কিন্তু তাদের কথা আমরা ভুলে যাই।”
এবি পার্টির পক্ষ থেকে গণশুনানির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “একটি জাতীয় গণশুনানি হওয়া দরকার, যেখানে আন্দোলনে অংশ নেওয়া মানুষরা তাঁদের অভিজ্ঞতা, নির্যাতন আর ত্যাগের কথা বলবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, সরকার এমন কোনো উদ্যোগ নেয়নি।”
তিনি বলেন, “আজ শহীদ আবু সাঈদের বাড়ির সামনে নতুন রাস্তা হয়েছে, আমরা শ্রদ্ধা জানাচ্ছি শহীদদের। কিন্তু যদি অভ্যুত্থান ব্যর্থ হতো, তাহলে শহীদদের পরিবার, আহত নেতাকর্মীদের জঙ্গি তকমা দিয়ে দমন করা হতো। যারা হত্যা চালিয়েছে, তারাই ‘বীর’ হতো।”
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের হাসনাত কাইয়ুম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, জেএসডির তানিয়া রবসহ বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতারা।





