ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দেশত্যাগের গুঞ্জনকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ইরানি দূতাবাস।


রোববার (১১ জানুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল— দেশজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ তীব্র হওয়ায় আয়াতুল্লাহ খামেনি দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এমনকি নিরাপত্তা বাহিনী বা সেনাবাহিনী সরকারের নির্দেশ অমান্য করলে তিনি পরিবারের প্রায় ২০ সদস্যকে নিয়ে দেশত্যাগ করতে পারেন বলেও গুঞ্জন ছড়ানো হয়। সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর নামও উল্লেখ করা হয়।


তবে এসব দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে ভারতে অবস্থিত ইরানের দূতাবাস। এক বিবৃতিতে দূতাবাস জানায়, খামেনির দেশত্যাগ সংক্রান্ত খবর সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও গুজব। বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধ চলাকালেও আয়াতুল্লাহ খামেনি দেশ ছাড়েননি। সুতরাং বিক্ষোভের কারণে তার দেশত্যাগের খবরের কোনো সত্যতা নেই। দূতাবাস এসব প্রচারকে শত্রু রাষ্ট্রগুলোর অপপ্রচার হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানায়।


উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের বিভিন্ন শহরে মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখা গেছে। অনেক এলাকায় দোকানপাট বন্ধ থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিক্ষোভকারীরা অর্থনৈতিক সংস্কার ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার দাবি জানাচ্ছেন।


অন্যদিকে, সরকারের সমর্থনেও বড় আকারের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কেরমানসহ বিভিন্ন শহরে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে আয়াতুল্লাহ খামেনির প্রতি সমর্থন জানিয়ে সরকারপন্থি স্লোগান দিচ্ছেন। এতে বোঝা যাচ্ছে, দেশের ভেতরে মতবিরোধ থাকলেও সরকারের ওপর নিয়ন্ত্রণ এখনো দৃঢ় রয়েছে।


এনডিটিভিকে দেওয়া বক্তব্যে কয়েকজন ইরানি নাগরিক জানান, মূল্যস্ফীতি বড় সমস্যা হলেও তারা খামেনির বিরোধী নন। তাদের মতে, খামেনিবিরোধী আন্দোলনের পেছনে সাবেক শাহ রেজা পাহলভির সমর্থক ও বিদেশি শক্তির ভূমিকা রয়েছে।


এদিকে কোম শহরের ইসলামি চিন্তাবিদ মাওলানা জামির জাফরি বলেন, গত ৩ জানুয়ারি জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে আয়াতুল্লাহ খামেনি সক্রিয়ভাবে দেশের নেতৃত্ব দেওয়ার প্রমাণ রেখেছেন। তিনি জানান, তেহরানে পরিস্থিতি মোটামুটি স্বাভাবিক এবং খামেনির দেশত্যাগের খবর সম্পূর্ণ ভুয়া। একই সঙ্গে তিনি যাচাই ছাড়া এমন সংবাদ প্রকাশ না করার আহ্বান জানান।