কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত উপভূমি সংস্কার কমিশনার অন্নপূর্ণা দেবনাথকে ঘিরে জেলায় তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁকে অবিলম্বে পদত্যাগ ও অপসারণের জোরালো দাবি তুলেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক মহল।

অভিযোগ উঠেছে, অন্নপূর্ণা দেবনাথ অতীতে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন এবং ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী দপ্তরে দায়িত্ব পালন করেছেন। এমন একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে জেলা প্রশাসন ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে।

ডিসি পদে তাঁর নিয়োগের পরপরই একটি বিশেষ গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে উচ্ছ্বাস ও অভিনন্দন জানানো হয়। বিশ্ব হিন্দু মহাজোটের একজন নেতার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে লেখা হয়, “অভিনন্দন ও শুভ কামনা রইল দিদিভাই।” বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর জেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা আরও তীব্র আকার ধারণ করে।

এদিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের জেলা রিটার্নিং অফিসার হিসেবেও দায়িত্বে থাকা অন্নপূর্ণা দেবনাথের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, তিনি ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর এবং ইস্কনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট ও বিতর্কিত ব্যক্তির হাতে প্রশাসন ও নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব থাকা গণতন্ত্র ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য মারাত্মক হুমকি।

আন্দোলনকারীরা বলেন, আসন্ন যেকোনো নির্বাচনে নিরপেক্ষতা, বিশ্বাসযোগ্যতা ও জনআস্থা নিশ্চিত করতে হলে অন্নপূর্ণা দেবনাথকে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসারের পদ থেকে অবিলম্বে সরিয়ে দিতে হবে। দাবি আদায় না হলে বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।