ভারত-শাসিত জম্মু ও কাশ্মিরে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর পাকিস্তান জরুরি ভিত্তিতে তাদের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির (NSC) বৈঠক ডাকেছে। TRT ওয়ার্ল্ড এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ভারতের কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়ার জবাবে পাকিস্তান এই বৈঠক আহ্বান করেছে।

\r\n

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকে পাকিস্তানের সামরিক ও বেসামরিক শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার জানান, সাধারণত বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলা বা বহিরাগত হুমকির সময় এ ধরনের বৈঠক আহ্বান করা হয়।

\r\n

মঙ্গলবার জম্মু ও কাশ্মিরের পেহেলগামে এক পর্যটন এলাকায় বন্দুকধারীদের গুলিতে ২৬ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ২৫ জন ভারতীয় এবং একজন নেপালের নাগরিক ছিলেন। এটি গত ২৫ বছরে কাশ্মিরে সবচেয়ে ভয়াবহ বেসামরিক হত্যাকাণ্ড।

\r\n

এই হামলার জন্য ভারত সরাসরি পাকিস্তানের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে একাধিক কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেয়। এর মধ্যে রয়েছে পানি বণ্টন চুক্তি স্থগিত, প্রধান সীমান্ত পথ বন্ধ, পাকিস্তানি কূটনীতিকদের বহিষ্কার, এবং পাকিস্তানি নাগরিকদের কিছু ভিসা বাতিল করে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ।

\r\n

ভারতের দাবি, হামলার পেছনে বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহীদের হাত রয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনও গোষ্ঠী আনুষ্ঠানিকভাবে দায় স্বীকার করেনি, “কাশ্মির রেজিস্ট্যান্স” নামের একটি অজানা সংগঠন সোশ্যাল মিডিয়ায় দায় স্বীকার করেছে। তারা দাবি করেছে, নিহতরা পর্যটক নয় বরং ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত। তবে তাদের দাবি স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা যায়নি।

\r\n

পাকিস্তান এই হামলাকে ভারতের সাজানো “ফলস ফ্ল্যাগ” অপারেশন বলে দাবি করেছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “এই সম্ভাবনাকে পুরোপুরি অস্বীকার করা যায় না।” পাকিস্তান জানিয়েছে, ভারতের কূটনৈতিক পদক্ষেপগুলোর জবাবে তারা পাল্টা ব্যবস্থা নেবে।

\r\n

প্রসঙ্গত, ১৯৮৯ সাল থেকে কাশ্মিরে ভারতীয় শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ চলছে। বহু কাশ্মিরি মুসলিম বিদ্রোহীদের সমর্থন করেন এবং চান অঞ্চলটি হয় পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত হোক, অথবা স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করুক। ভারত এই আন্দোলনকে পাকিস্তান-সমর্থিত সন্ত্রাসবাদ হিসেবে দেখে, আর পাকিস্তান এটিকে বৈধ স্বাধীনতাকামী আন্দোলন বলে দাবি করে।