স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, কারা সদস্যরা কোনো স্বার্থান্বেষীর রক্ষক নন। তারা রাষ্ট্রের জনগণের টাকায় বেতনভুক্ত সরকারি কর্মচারী এবং জনগণের কল্যাণই তাদের একমাত্র দায়িত্ব। “আপনারা কারও বেতনভুক্ত কর্মচারী নন, আপনারা সরকারের বেতনভুক্ত কর্মচারী। জনকল্যাণই আপনার একমাত্র কাজ,” বলেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে কাশিমপুর কারাগারের প্যারেড গ্রাউন্ডে ৬৩তম ব্যাচ মহিলা কারারক্ষীদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী কুচকাওয়াজ শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, দুর্নীতি একটি রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু। এটি শুধু অর্থনীতির ক্ষতি করে না, বরং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ভেতর থেকে ক্ষয় করে এবং জনগণের বিশ্বাসও ভেঙে ফেলে। কোনো কারা সদস্য যদি নিজ স্বার্থ, লোভ বা রাজনৈতিক সুবিধার জন্য কাজ করেন, তবে তিনি শুধু আইন ভাঙেন না, রাষ্ট্রের ভিত্তিকেও আঘাত করেন।
তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ৬৩তম ব্যাচ মহিলা কারারক্ষীদের ভবিষ্যৎ জীবনের সাফল্য কামনা করি।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন ভণ্ডুল বা অস্থিতিশীল করার কোনো সম্ভাবনা নেই। যারা সাহস দেখাতে চাইছে, তারা দেশে এসে বললে। তারা আইনের আওতায় আছে, তাই আইনের আশ্রয় নিয়ে বাইরেই বক্তব্য দিচ্ছে। যারা দেশীয় সাপোর্টার ও সন্ত্রাসী ছিল, তারা এখন বিভিন্ন দেশে পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। আমরা এসব জঙ্গি ও ফ্যাসিস্টদের ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতি অনুরোধ জানাবো।
সমাপনী কুচকাওয়াজে উপস্থিত ছিলেন কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন, অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল মোহাম্মদ মোস্তাফা কামাল, কর্নেল মো. তানভীর হোসেন, কর্নেল মেছবাহল আলম সেলিম, মো. জাহাঙ্গীর কবির, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কমান্ড্যান্ট টিপু সুলতান, গাজীপুরের পুলিশ কমিশনার, উপ-কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সমাপনী কুচকাওয়াজের শুরুতে প্রধান অতিথি প্যারেড গ্রাউন্ডে উপস্থিত হয়ে নবীন প্রশিক্ষণার্থীদের সশস্ত্র সালাম ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। নবীন কারারক্ষীরা সুসজ্জিত বাদক দলের তালে মাঠ প্রদক্ষিণ করেন, শারীরিক সক্ষমতা, মনোবল ও দলগত সমন্বয়ের দক্ষতা প্রদর্শন করেন এবং অস্ত্রবিহীন আত্মরক্ষা কৌশলের চমকপ্রদ পরিবেশনা উপস্থাপন করেন। কুচকাওয়াজ শেষে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। শ্রেষ্ঠত্বের জন্য পিটি, ড্রিল, ফায়ারিং, অস্ত্রবিহীন যুদ্ধ, লিখিত পরীক্ষা এবং সর্বমোট পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে ৬টি ক্যাটাগরিতে প্রশিক্ষণার্থীদের নির্বাচন করা হয়।





