কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় দ্বীন ইসলাম (৩০) নামে এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে উপজেলার মেহারী ইউনিয়নের শিমরাইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে ২০–৩০ জনের একটি দল দ্বীন ইসলামকে তার নিজ বাড়ি থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বুড়ি নদী পার করে কুমিল্লার বাঙ্গরা থানার গাঙ্গেরকুট এলাকায় ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।
পরিবারের সদস্যরা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। কসবা থানার পুলিশ নদীর পাড়ে গিয়ে জানতে পারে ঘটনাস্থলটি কুমিল্লার বাঙ্গরা থানার আওতাধীন। পরে বাঙ্গরা থানার সিদ্ধিরগঞ্জ ফাঁড়ির পুলিশ তাকে উদ্ধার করে কসবা থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত দ্বীন ইসলাম উপজেলার শিমরাইল গ্রামের সফিকুর ইসলাম ও পারুলী বেগমের ছেলে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও ইউটিউবে ‘তালাশ ক্রাইম দৃষ্টি’ নামে একটি পেজ পরিচালনা করতেন। মাদক ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে ভিডিও তৈরি করে এলাকায় পরিচিতি পান।
নিহতের পরিবার দাবি করেছে, অপরাধীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভিডিও প্রকাশ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করেছে। তারা এ ঘটনায় স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মো. আবদুল আওয়াল ও তার সহযোগীদের জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আবদুল আওয়াল বলেন, দ্বীন ইসলামের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। একটি মহল তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জড়ানোর চেষ্টা করছে।
কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানা বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কয়েকজন ব্যক্তি তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে মারধর করে হত্যা করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নিহতের বিরুদ্ধে কসবা থানায় মাদক, চুরি ও ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। হত্যার পেছনের কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।