ভারতের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদি ও তার প্রয়াত মাকে নিয়ে কংগ্রেসপন্থী এক কর্মীর বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে শুক্রবার (২৯ আগস্ট) বিহারের পাটনায় কংগ্রেস এবং বিজেপি কর্মীদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে সাদাকাত আশ্রমে অবস্থিত কংগ্রেসের রাজ্য কার্যালয় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
ঘটনার সূত্রপাত কয়েক দিন আগে দরভঙ্গায় কংগ্রেসের একটি সমাবেশে, যেখানে এক কংগ্রেস কর্মী মোদি এবং তার মাকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। ওই সময় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সেখানে উপস্থিত ছিলেন। বিজেপি দাবি করছে, রাহুল গান্ধী ইচ্ছাকৃতভাবে নীরব থেকে ওই মন্তব্যকে সমর্থন করেছেন। ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিজেপি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।
শুক্রবার সকালে বিজেপির একটি মিছিল কংগ্রেসের পাটনা অফিসের সামনে গেলে দুই দলের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং লাঠিসোটা নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন এবং কংগ্রেসের দপ্তরের গেটসহ আশপাশের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আপাতত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও পুরো ঘটনায় তদন্ত চলছে।
এদিকে, একইদিন কলকাতায় প্রদেশ কংগ্রেস দপ্তরের সামনে উত্তেজনা দেখা দেয়। সেখানে বিজেপি কর্মীরা রাহুল গান্ধীর ছবি ও পোস্টার ছিঁড়ে আগুনে পোড়ায়। বিজেপি দাবি করছে, এটি মোদিকে নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদে তাদের কর্মসূচি ছিল। তবে কংগ্রেস অভিযোগ করছে, এটি ছিল একটি পরিকল্পিত ভাঙচুর।
সংঘর্ষের পর দুই দলই একে অপরকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগে দায়ী করেছে। কংগ্রেসের দাবি, নির্বাচনের আগে বিজেপি ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে, আর বিজেপি দাবি করছে, কংগ্রেস নেতৃত্ব মোদিকে নিয়ে অশালীন মন্তব্যে নীরব থেকেছে এবং তা প্রশ্রয় দিয়েছে।





