ঢাকা, ১৩ নভেম্বর – আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেছেন, যদি দেশবাসী একত্রিত থাকে এবং জনগণ সচেতন থাকে, তাহলে দেশের ভাগ্য নিয়ে বা নৈরাজ্য সৃষ্টির শক্তি কারোরই কখনো থাকবে না।
শেখ হাসিনার মামলার রায়ের দিন ধার্য হওয়ার পর বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, “যদি কেউ সরাসরি বিচারপ্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করে বা হুমকি দেয়, তা আদালতের প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করবে। আমরা আইনের মধ্যে থেকে সবকিছু পরিচালনা করতে চাই। দেশে সরকার এবং জনগণ আছে, তারা সবকিছু বোঝেন। যারা উসকানি দেবেন বা সন্ত্রাসের চেষ্টা করবেন, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আশা করি, বিচ্ছিন্ন ঘটনা দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলবে না। সবকিছু স্বাভাবিকভাবে চলবে এবং বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।”
জাতিসংঘে আওয়ামী লীগের অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্নে তিনি জানান, “যারা চাই প্রশ্ন তুলতে পারেন। কিন্তু এই বিচার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ এবং স্বচ্ছ প্রমাণের ভিত্তিতে হয়েছে। আইন নিজস্ব গতিতে চলবে, ন্যায়বিচার নিজস্ব গতিতে সম্পন্ন হবে।”
এদিন দুপুর ১২টা ৯ মিনিটে জুলাই গণহত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিন আসামির রায়ের দিন ধার্য করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন নির্ধারণ করেন। প্যানেলের অন্যান্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, গাজী এমএইচ তামিম ও ফারুক আহাম্মদ। আসামিপক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন। এছাড়া মামুনের আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদও উপস্থিত ছিলেন।
গত ২৩ অক্টোবর অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান সমাপনী বক্তব্য দেন। তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বিশ্বের বিভিন্ন নেতাদের বিচার প্রক্রিয়া উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন এবং শেখ হাসিনা ও কামালের সর্বোচ্চ সাজা দাবি করেন। এরপর চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীর যুক্তি উপস্থাপনের বিষয়ে মন্তব্য করেন। তারপরে মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণার জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়।
মামলায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন। এজন্য প্রসিকিউশন তাঁর ক্ষেত্রে চরম দণ্ড বা সর্বোচ্চ সাজা চাওয়ার পরিবর্তে ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দিয়েছে।
শেখ হাসিনার মামলায় মোট ৮৪ জন সাক্ষী ডাকা হয়েছিল, যাদের মধ্যে ৫৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। সাক্ষ্য গ্রহণ চলেছে ৩ আগস্ট থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত। মামলায় তিন আসামির বিরুদ্ধে পাঁচটি মানবতাবিরোধী অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে: উসকানি, মারণাস্ত্র ব্যবহার, আবু সাঈদ হত্যা, চানখারপুলে হত্যা এবং আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো।
প্রসিকিউশনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগের ৮,৭৪৭ পৃষ্ঠা উপস্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে তথ্যসূত্র দুই হাজার ১৮ পৃষ্ঠা, জব্দতালিকা ও দালিলিক প্রমাণাদি চার হাজার পাঁচ পৃষ্ঠা এবং শহীদদের তালিকার বিবরণ দুই হাজার ৭২৪ পৃষ্ঠা। মামলার প্রতিবেদন ১২ মে চিফ প্রসিকিউটরের কাছে জমা দেওয়া হয়।
এবার দেশের ইতিহাসে জুলাই গণহত্যার প্রথম রায় শোনার অপেক্ষায় জাতি।





