ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ওমান উপকূলে একটি মার্কিন সামরিক সহায়তা জাহাজে হামলা চালিয়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ) আলজাজিরা আইআরজিসির খাতাম আল-আনবিয়া সদর দপ্তরের একজন মুখপাত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করে।
মুখপাত্র জানিয়েছেন, ইরানি বাহিনী ওমানের সালালাহ বন্দর থেকে কিছু দূরে ওই মার্কিন জাহাজটিকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান ভ্রাতৃপ্রতিম ও বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ ওমানের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করে।
এদিকে, ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম যুলফাগারি জানান, “একটি রসদবাহী জাহাজকে, যা আগ্রাসী মার্কিন সেনাবাহিনীকে সমর্থন করছিল, আইআরজিসি ওমানের সালালাহ বন্দর থেকে কিছু দূরে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে।”
এর আগে বুধবার ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, তারা উপকূলীয় অঞ্চলে মোতায়েন মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, নৌ কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে এই অভিযানের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি জানিয়েছেন, ‘শত্রু’ বিমানবাহী রণতরির গতিবিধির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে, এবং রণতরিটি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার পাল্লায় এলে তা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।
সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন রণতরিতে আঘাত হানতে সক্ষম ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছিল, যার ফলে রণতরিটিকে অবস্থান পরিবর্তন করতে হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এই হামলা নিয়ে এখনো কোনো মন্তব্য দেয়নি।
২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালিয়ে আসছে। এই সংঘর্ষে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ ১,৩৪০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। পাল্টা হামলায় তেহরান ইসরায়েল, জর্ডান, ইরাক এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু করেছে। এতে হতাহতের পাশাপাশি অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে এবং বৈশ্বিক বাজার ও বিমান চলাচলে ব্যাঘাত ঘটেছে।





