আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি: এবার আর জনগণ চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের হাতে দেশ তুলে দেবে না—এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ও ১১ দলীয় ঐক্য সমর্থিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা–আখাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. আতাউর রহমান সরকার।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় আখাউড়া উপজেলার ৩নং মোগড়া ইউনিয়নে মো. আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে আয়োজিত এক নির্বাচনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আতাউর রহমান সরকার বলেন, আমাদের সবারই প্রত্যাশা একটি নিরাপদ ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তোলা। দীর্ঘদিন পর জনগণ একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের সুযোগ পেয়েছে। তাই সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচনের লক্ষ্যে জনগণের মাঝে পরিবর্তনের গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রশাসন যেভাবে পরিচালিত হওয়ার কথা ছিল, বাস্তবে তা হচ্ছে না। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। যাদের ওপর দায়িত্ব ছিল, তারা তা সঠিকভাবে পালন না করে শোষণ ও নির্যাতনের মাধ্যমে জনগণের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে।
আতাউর রহমান সরকার অভিযোগ করে বলেন, স্বচ্ছ শাসনব্যবস্থার অভাবে নিরপরাধ মানুষ দলীয় বিবেচনায় নিপীড়ন, জুলুম ও হত্যার শিকার হয়েছে। রাষ্ট্রের এই লাইনচ্যুতি সংশোধনে দায়িত্বশীল পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের পতাকা এমন হাতেই তুলে দিতে
হবে, যারা পতাকার সম্মান সমুন্নত রাখতে জানে। আমরা দলীয় লোকদের নয়, সাধারণ জনগণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিই। কসবা-আখাউড়ায় পরিবর্তনের জন্য এবার নতুনত্ব প্রয়োজন। আপনারা যদি আমাকে নির্বাচিত করেন, তাহলে ইনশাআল্লাহ একটি স্বপ্নের কসবা-আখাউড়া উপহার দেব।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অমুসলিম ভাই-বোনেরা আমাদের কাছে মায়ের কাছে সন্তানের মতোই নিরাপদ থাকবে। জামায়াতে ইসলামী কখনো সংখ্যালঘুদের নির্যাতন করেনি। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ রাষ্ট্র গড়াই আমাদের অঙ্গীকার।
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, বিরোধী দলের পিএসের ব্যাংক হিসাবে থাকা ৩০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগের সঠিক জবাব তারা কি দিতে পারবে? একই সঙ্গে অভিযোগ করেন, ধানের শীষের পক্ষে কাজ করলে আওয়ামী লীগের লোকদের মামলা তুলে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে।
দুর্নীতির কারণে জনগণ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে উল্লেখ করে আতাউর রহমান সরকার বলেন, এবার জনগণ তাদের অধিকার বুঝে নেবে। নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, মামলা ও হুমকি দিয়ে এই বিজয় ঠেকানো যাবে না ইনশাআল্লাহ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া বলেন, আমাদের পাঁচ বছরের জন্য ক্ষমতা দিয়ে দেখুন। আমরা যদি সঠিকভাবে দেশ পরিচালনা করতে ব্যর্থ হই, তাহলে ভবিষ্যতে আর আপনাদের কাছে দায়িত্ব চাইবো না।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আখাউড়া উপজেলা আমীর মো. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রশিবির সভাপতি জুলফিকার হায়দার রাফি, জেলা প্রচার সম্পাদক সাইফুল্লাহ আল আরিফ, আখাউড়া উপজেলা ছাত্রশিবির সভাপতি শেখ আসিফ, এনসিপির আখাউড়া উপজেলা প্রধান সমন্বয়ক মো. ইয়াকুব আলীসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।





