যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যৌন নিপীড়ন ও নারী পাচারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত কুখ্যাত জেফরি এপস্টেইনের নথি প্রকাশের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের রিপাবলিকান সদস্যদের প্রতি। এর মাধ্যমে তিনি আগের অবস্থান থেকে সরে এসে বিপরীতমুখী অবস্থান নিয়েছেন।


রোববার রাতে নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, “প্রতিনিধি পরিষদের রিপাবলিকান সদস্যরা এপস্টেইনের নথি প্রকাশের পক্ষে ভোট দেওয়া উচিত। আমাদের লুকানোর কিছু নেই।”


এর আগে কয়েক দিন ধরে ট্রাম্প এপস্টেইনের নথি প্রকাশ–সংক্রান্ত প্রস্তাবের বিরুদ্ধে অবস্থান জানিয়ে আসছিলেন। তবে এখন তিনি সেই অবস্থান থেকে সরে এসে নথি প্রকাশের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।


ট্রাম্পের এই অবস্থান বদল এমন সময় এসেছে, যখন প্রতিনিধি পরিষদে এপস্টেইনের নথি প্রকাশ–সংক্রান্ত একটি আইন প্রণয়নের ওপর ভোটাভুটি হতে যাচ্ছে। এই আইনের আওতায় মার্কিন বিচার বিভাগকে নথিগুলো জনসাধারণের জন্য প্রকাশ করতে বাধ্য করা হবে।


যুক্তরাষ্ট্রের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাবটির যথেষ্ট সমর্থন পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে উচ্চকক্ষ সিনেটে এটি পাস হবে কি না তা নিশ্চিত নয়। ডেমোক্র্যাট ও কিছু রিপাবলিকান সদস্য বিচার বিভাগের মাধ্যমে আরও নথি প্রকাশে চাপ দিচ্ছেন।

এই প্রস্তাবের নাম ‘এপস্টেইন ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট’। এর লক্ষ্য হলো জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কিত সব অগোপনীয় নথি, রেকর্ড, চিঠিপত্র এবং তদন্ত সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশে বিচার বিভাগকে বাধ্য করা।


কয়েকজন রিপাবলিকান সদস্য দলের বিরুদ্ধে গিয়ে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেবেন বলে শোনা যাচ্ছিল। এমন সময়ে ট্রাম্প রিপাবলিকানদের প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। রিপাবলিকান প্রতিনিধি টমাস ম্যাসি জানিয়েছেন, প্রায় ১০০ জন রিপাবলিকান প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিতে পারেন।


ট্রাম্প ফ্লোরিডা থেকে ম্যারিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজ বিমানঘাঁটিতে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পরে ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “বিচার বিভাগ ইতিমধ্যেই এপস্টেইন–সংক্রান্ত হাজার হাজার পৃষ্ঠার তথ্য প্রকাশ করেছে। তারা বিভিন্ন ডেমোক্র্যাটিক নেতার সঙ্গে এপস্টেইনের সম্পর্ক খতিয়ে দেখছে। হাউস ওভারসাইট কমিটি আইনগতভাবে যে তথ্য চাইবে, তা পাবে—আমার কোনো আপত্তি নেই।”


এপস্টেইন ২০০৮ সালে ফ্লোরিডায় ১৮ বছরের কম বয়সী এক মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের চেষ্টা করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন। অন্য একটি যৌনপণ্য পাচারের মামলায় বিচারের অপেক্ষায় থাকাকালে ২০১৯ সালে তিনি কারাগারে মারা যান।