বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রশ্ন তুলেছেন, দেশে বিপুল সংখ্যক মসজিদ-মাদ্রাসা ও আলেম-ওলামা থাকা সত্ত্বেও কেন অন্যায়, দুর্নীতি, চুরি ও অর্থপাচার বেড়েই চলেছে।

শনিবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ইসলামিক ফাউন্ডেশন মসজিদভিত্তিক গণশিক্ষা কেয়ারটেকারদের এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, মসজিদ নির্মাণে মানুষের আগ্রহ থাকলেও সেই আগ্রহ নৈতিক মানুষ গঠনে দেখা যায় না। তার মতে, ধর্ম ও নৈতিকতা সমাজে কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে হলে আরও গবেষণা, আলোচনা ও উদ্যোগ দরকার।

ইন্দোনেশিয়ার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে কোনো সরকার বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে উলামা পরিষদকে অগ্রাধিকার দেয়, কিন্তু বাংলাদেশে এমন প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো নেই।

মির্জা ফখরুল দাবি করেন, বিএনপি একটি উদারপন্থি গণতান্ত্রিক দল এবং গণতন্ত্র না থাকলে কারো অধিকারই প্রতিষ্ঠা পায় না। গত ১৫–১৬ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে মানুষের ভোটাধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, কিছু আলেম-ওলামা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘কওমি জননী’ উপাধি দেওয়ায় জনগণের মধ্যে প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তার অভিযোগ, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয়করণ ও অযোগ্য নিয়োগের ফলে সেগুলো কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

ফখরুল জানান, বিএনপি ক্ষমতায় এলে ইসলামী ফাউন্ডেশনকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর এবং রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিদিন সংবাদপত্রে নানা অপরাধের খবর প্রকাশিত হচ্ছে। নৈতিক শিক্ষা শক্তিশালী করা গেলে হত্যা, রাহাজানি ও অন্যান্য অপরাধ কমে আসবে। পরিবার, শিক্ষক, স্কুল ও মাদ্রাসাই নৈতিকতার মূল ভিত্তি—এসবকে শক্তিশালী করাই হবে তাদের অগ্রাধিকার।

সভায় তিনি সুন্দর, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক সরকার ও সংসদ গঠনের আহ্বান জানান। তার মতে, জাতীয় সমস্যার সমাধান সেই সংসদেই হওয়া উচিত এবং সেটিই জনগণের প্রত্যাশা।