গত শুক্রবার (১৩ জুন) ইসরায়েল প্রথম বড় ধরনের বিমান হামলা চালানোর পর থেকেই ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করেছে। এই সংঘাতের মাত্রা এতটাই ভয়াবহ হয়ে উঠেছে যে, দুই দেশেই শত শত প্রাণহানি, হাজারো আহত এবং ব্যাপক অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে।

\r\n

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর জানিয়েছে, ইরান ইতোমধ্যে ৪০০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। পাশাপাশি, শত শত ড্রোন ছোড়া হয়েছে ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরের দিকে।

\r\n

তেল আবিবের আকাশে বুধবার (১৮ জুন) ভোরে ইসরায়েলি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশেই প্রতিহত করে।

\r\n

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানায়, হামলায় ৪০টি স্থানে আঘাত লেগেছে, যার মধ্যে রয়েছে সামরিক ঘাঁটি, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং আবাসিক এলাকা। দেশটির কর দপ্তরে জমা পড়েছে ১৯ হাজারেরও বেশি ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ
এখন পর্যন্ত ২৪ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে শিশু ও বয়স্ক নাগরিক রয়েছেন। আহত হয়েছেন ৮০০ জনের বেশি এবং অন্তত ৩ হাজার ৮০০ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে নিরাপদ স্থানে।

\r\n

এদিকে, ইরানের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের পাল্টা হামলায় এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ২২৪ জন নিহত এবং ১ হাজার ২৭৭ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, ইরানে ৫৮৫ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন।

\r\n

এদিকে ইসরায়েলের একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে এই হামলার পরিকল্পনা ফেব্রুয়ারিতেই যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জানিয়ে দেন নেতানিয়াহু

\r\n

মানবিক সংকট ও বৈশ্বিক উদ্বেগ:
এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে দুই দেশের জনগণের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও মানবিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতালে জরুরি অবস্থা, বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ ও পানির ঘাটতি, এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বিচ্ছিন্নতা দেখা দিয়েছে।

\r\n

বিশ্ব নেতারা শান্তির আহ্বান জানালেও এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকর কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিতে পারেনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত আসেনি।

\r\n

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই সংঘাত অব্যাহত থাকলে তা পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ভয়াবহ যুদ্ধের রূপ নিতে পারে, যার প্রভাব পড়বে বিশ্বব্যাপী।