ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি:গ্যাস সংকটে এক বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ সার কারখানা। এতে ব্যাহত হয়েছে অন্তত ২ হাজার কোটি টাকার ইউরিয়া উৎপাদন। বর্তমানে আমদানি করা সার দিয়ে চাহিদা মেটানো হলেও মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম বাড়ায় বিতরণ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আশুগঞ্জ উপজেলা সদরের মেঘনা নদীর তীরে ৪ দশকেরও বেশি সময় আগে প্রতিষ্ঠিত আশুগঞ্জ সার কারখানা। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ১ হাজার ১০০ টন ইউরিয়া সার উৎপাদন করতে পারে কারখানাটি। তবে প্রতিষ্ঠার প্রথম দিকে উৎপাদন ক্ষমতা ছিল আরও বেশি। আশুগঞ্জ সার কারখানায় উৎপাদিত প্রিলড ইউরিয়া সার সরবরাহ করা হয় কমান্ডভুক্ত ৭ জেলায়।
তবে উৎপাদনরত অবস্থায় গত বছরের পহেলা মার্চ গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ায় সার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকার সার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। তবে কারখানা বন্ধ থাকলেও শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন ও যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণসহ আনুষাঙ্গিক খরচ মেটাতে গিয়ে অর্থসংকটে দেশের পুরোনো এ সার কারখানা।
মূলত দীর্ঘদিনের পুরোনো হওয়ায় আশুগঞ্জ সার কারখানায় গ্যাস লাগে বেশি। উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে প্রতিদিন ৪৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হয় কারখানাটিতে। তবে গত কয়েক বছর ধরে নিরবচ্ছিন গ্যাস পাচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। এতে করে সার উৎপাদনে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনে বেঁধে দেওয়া লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা যাচ্ছে না। ফলে চাহিদা মেটানো হয় বিদেশ থেকে আমদানি করা সার দিয়ে।
উৎপাদনসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ‘জিয়া সার কারখানা’ থেকে নাম পরিবর্তন করে আশুগঞ্জ সার কারখানা করার পর ইচ্ছাকৃতভাবে গ্যাস রেশনিংয়ের নামে বছরের অর্ধেকের বেশি সময় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়। এর ফলে পুরোদমে উৎপাদন চালু রাখতে না পারায় কারখানা ও প্রতিষ্ঠানের বেশ লোকসান হয়।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়ছে সারের দাম। এ অবস্থায় যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে ব্যাহত হতে পারে সার আমদানি, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সার বিতরণ কার্যক্রমে। তাই সংকট মোকাবিলায় দেশের বন্ধ সার কারখানাগুলো চালুর দাবি সংশ্লিষ্টদের।
আশুগঞ্জ সার কারখানা শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. আবু কাউসার বলেন, শুধু জিয়া সার কারখানা নামের কারণে রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় বিগত আওয়ামী লীগ সরকার কারখানাটিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। গ্যাস রেশনিংয়ের নামে ইচ্ছাকৃতভাবে কারখানায় বছরের অধিকাংশ সময় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখত। এর ফলে উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে না পেরে আশুগঞ্জ সার কারখানা এখন লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত।
তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম বাড়ছে। যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত হলে সার আমদানি ব্যাহত হবে। তাই সংকট মোকাবিলায় দেশের বন্ধ সার কারখানাগুলো দ্রুত চালু করা দরকার।
তবে বন্ধ কারখানার উৎপাদন কবে চালু হবে, সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই আশুগঞ্জ সার কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আশুগঞ্জ সার কারখানার উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) তাজুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, গ্যাসের জন্য নিয়মিত মন্ত্রণালয় এবং পেট্রোবাংলায় যোগাযোগ করা হচ্ছে। উৎপাদন চালুর জন্য আমরা সব রকম প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। গ্যাস সরবরাহ পেলে ১০-১৫ দিনের মধ্যে সার উৎপাদন চালু করা সম্ভব। এ ছাড়া আশুগঞ্জে সরকারের নতুন আরেকটি সার কারখানা করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।





