চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছিল গত বছরের সেপ্টেম্বরে। এক বছর কেটে গেলেও নতুন কমিটি গঠিত হয়নি। এ কারণে সাংগঠনিকভাবে পিছিয়ে পড়ছে সংগঠনটি। নেতৃত্ব না থাকায় তৃণমূল পর্যায়ের অনেক নেতা-কর্মী হতাশ হয়ে পড়েছেন।

নেতা-কর্মীরা বলছেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা। এই সময়ে কমিটি থাকলে ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ে প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা চালানো সহজ হতো। বর্তমানে কোনো কমিটি না থাকায় সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ব্যাহত হচ্ছে।

দলীয় সূত্র জানায়, নির্বাচনের আগেই কমিটি ঘোষণার বিষয়টি কেন্দ্রীয় পর্যায়ে বিবেচনায় আছে। স্থানীয় নেতাদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করার চেষ্টা চলছে।

২০১৮ সালের ১ জুন মোশাররফ হোসেন সভাপতি ও মোহাম্মদ শাহেদ সাধারণ সম্পাদক হয়ে পাঁচ সদস্যের আংশিক কমিটি পান। একই বছরের অক্টোবরে ঘোষণা করা হয় ২৩১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি। সেটির মেয়াদ শেষ হয় গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর। এরপর থেকে মহানগর যুবদল নেতৃত্বহীন অবস্থায় রয়েছে।

নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে চলতি বছরের জানুয়ারিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থীদের রাজনৈতিক বৃত্তান্ত সংগ্রহ করা হয়। এ সময় অর্ধশতাধিক নেতা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তাদের জীবনবৃত্তান্ত জমা দেন। ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণের বিবরণও এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল। ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

আহ্বায়ক পদে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন মোশাররফ হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহেদ, সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি ইকবাল হোসেন ও সাবেক সহসভাপতি শাহেদ আকবরসহ কয়েকজন। সদস্যসচিব পদে আগ্রহ দেখিয়েছেন সাবেক সহসভাপতি ফজলুল হক, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক ও সাবেক যুগ্ম সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম প্রমুখ। এর মধ্যে এমদাদুল হককে গত জুলাইয়ে দল থেকে বহিষ্কার করা হয় দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে, যদিও তিনি এটিকে ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন। আলোচনায় আছেন নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি এইচ এম রাশেদ খান ও নগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি গাজী সিরাজ উল্লাহও।

নগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান বলেন, “জাতীয় নির্বাচন যেহেতু সামনে, আশা করা যায় তার আগেই কমিটি ঘোষণা হবে।”
বিভাগীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মীর হেলাল উদ্দীন বলেন, “নির্বাচনের আগে সৎ, ত্যাগী ও দলের দুঃসময়ে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের মূল্যায়ন করেই কমিটি গঠন করা হবে।”
কেন্দ্রীয় যুবদলের দপ্তর সম্পাদক নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, “কমিটির যাচাই-বাছাই প্রায় শেষ হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা সেরে শিগগিরই চট্টগ্রামসহ কয়েকটি জেলার কমিটি ঘোষণা করা হবে।”

তৃণমূলের দাবি, দ্রুত কমিটি গঠন হলে সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল হবে এবং নির্বাচনে দলের প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করতেও সুবিধা হবে।