গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এক বছর পূর্ণ হচ্ছে আগামীকাল, ৮ আগস্ট। গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে টানা ১৫ বছরের শাসনের পর ক্ষমতা ছাড়েন শেখ হাসিনা। ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর তিনদিনের মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়, যার নেতৃত্বে দায়িত্ব পান নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

এক বছর পূর্তির প্রাক্কালে সরকারের অর্জন তুলে ধরেছেন প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম। বৃহস্পতিবার সকালে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে সরকারের ১২টি ‘প্রধান সাফল্য’ তুলে ধরা হয়।

প্রেস সচিবের তুলে ধরা সরকারের ১২টি সাফল্য:
১. শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা: জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের পর সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। প্রতিশোধ ও সহিংসতা এড়িয়ে জাতিকে পুনর্মিলন ও গণতন্ত্রের পথে ফিরিয়ে আনেন অধ্যাপক ইউনূস।

২. অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন: খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১৪ শতাংশ থেকে অর্ধেকে নেমে আসে, সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি ৮.৪৮ শতাংশে কমে। রেমিট্যান্স ৩০.৩৩ বিলিয়ন ডলার ছুঁয়ে রেকর্ড করে, রপ্তানি ৯% বাড়ে। ব্যাংক খাতও স্থিতিশীল হয়।

৩. বিনিয়োগ ও বাণিজ্যে অগ্রগতি: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক আলোচনা সফলভাবে শেষ হয়। হান্ডা গ্রুপের ২৫ কোটি ডলারের বিনিয়োগসহ দ্বিগুণ বৈদেশিক বিনিয়োগ আসে। চীনের বিনিয়োগকারীরাও আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

৪. গণতান্ত্রিক সংস্কার ও জুলাই সনদ: ৩০টির বেশি রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ করে ঐতিহাসিক ‘জুলাই সনদ’ প্রণয়ন। এই সনদ ভবিষ্যতে স্বৈরতন্ত্র রুখতে কাঠামোগত জবাবদিহি নিশ্চিত করবে।

৫. জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরু: মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে চারটি বড় মামলার বিচার চলছে, যার মধ্যে রয়েছে শেখ হাসিনার বিচারও।

নির্বাচন প্রস্তুতি ও সংস্কার: ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। তরুণ ভোটার, প্রবাসী এবং নারীদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু হচ্ছে। নিরাপত্তায় মোতায়েন হবে ৮ লাখ সদস্যের বাহিনী।

৭. আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার: বিচার বিভাগের স্বাধীনতা জোরদার, পুলিশ সংস্কার, মানবাধিকার সেল, স্বচ্ছ তদন্ত প্রক্রিয়া চালু। গ্রেফতারের পর পরিবারের কাছে ১২ ঘণ্টার মধ্যে জানানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

৮. গণমাধ্যম স্বাধীনতা ও ডিজিটাল অধিকার: দমনমূলক সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল, সব সাংবাদিক মামলার অবসান, ইন্টারনেট অ্যাক্সেসকে মৌলিক অধিকার ঘোষণা।

৯. পররাষ্ট্রনীতি ভারসাম্যপূর্ণকরণ: একক নির্ভরতার বদলে বহুপাক্ষিক সম্পর্ক গড়ে তোলা হয়েছে। সার্ক ও আসিয়ানে সক্রিয়তা বাড়ানো হয়েছে।

১০. প্রবাসী ও শ্রমিক অধিকার: আমিরাত ও মালয়েশিয়ায় ভিসা চালু, জাপানে ১ লাখ তরুণ পাঠানোর উদ্যোগ, নতুন দেশে শ্রমবাজার সম্প্রসারণের পরিকল্পনা।

১১. বিপ্লবীদের সহায়তা: ৭৭৫ শহীদ পরিবারের মাঝে ১০০ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র, ১৩,৮০০ আহতকে ১৫৩ কোটি টাকা সহায়তা। গুরুতর আহতদের বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

১২. সমুদ্র সম্পদ ও অবকাঠামো উন্নয়ন: বঙ্গোপসাগরকে 'জলভিত্তিক অর্থনীতির মূল কেন্দ্র' ঘোষণা। বন্দরের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং উপকূলীয় উন্নয়ন প্রকল্প জোরদার।