জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা জোরদার হয়েছে। এ দুটি ভোট একদিনে অনুষ্ঠিত হলে ভোটগ্রহণের সময় বাড়িয়ে ১০ ঘণ্টা করার প্রস্তাব বিবেচনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বর্তমানে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টানা আট ঘণ্টা ভোটগ্রহণ চলে, তবে নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী তা সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত হতে পারে।

ইসি ও সংস্কার কমিশনের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে হলে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম আরও সময়সাপেক্ষ হবে। তাই ভোটারদের নির্বিঘ্ন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

গণভোট ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এখনও মতপার্থক্য রয়েছে। জামায়াতে ইসলামী চায় সংসদ নির্বাচনের আগে গণভোট, অন্যদিকে বিএনপি চায় দুই ভোট একই দিনে। তবে ঐক্যমত সংস্কার কমিশন সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একদিনে আয়োজনের পক্ষে সুপারিশ করেছে। বুধবার পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকারও এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করেনি বলে জানা গেছে।

সরকারি সূত্র বলছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সংবিধানসংক্রান্ত ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে ৩০টিতে বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল একমত হয়েছে। গণভোটে এই ৩০টি প্রস্তাব নিয়ে একটি সম্মিলিত প্রশ্ন রাখার চিন্তা করা হচ্ছে—ভোটারদের জিজ্ঞেস করা হবে তারা এসব সংস্কার চান কি না। বাকি ১৮টি প্রস্তাব নিয়ে মতভেদ থাকায় সেগুলোর ওপর আলাদা তিন-চারটি প্রশ্ন রাখার বিষয়টি বিবেচনায় আছে।

নির্বাচন কমিশনের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে হলে ভোটারদের জন্য প্রক্রিয়াটি সহজ হবে। সব প্রশ্ন একসঙ্গে পেশ করা গেলে জনগণ ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ দিয়ে স্পষ্টভাবে মত জানাতে পারবে। একাধিক প্রশ্ন হলে তা বিভ্রান্তি তৈরি করবে।”

ইসির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখা ইতিমধ্যেই একদিনে দুই ভোট আয়োজনের খসড়া প্রস্তুত করছে। এতে ভোটের সময় দুই ঘণ্টা বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট উপসচিব এই প্রস্তাবনাটি তৈরি করছেন, যাতে সরকার জুলাই সনদ অনুযায়ী গণভোটের অনুমোদন দিলে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতিতে কোনো বাধা না থাকে।

অন্যদিকে, সংস্কার কমিশন ও ইসি উভয় পক্ষই বলছে, এক দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হলে ব্যয় কমবে, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাও সহজ হবে। তবে বাড়তি ভোটের চাপ সামলাতে নির্বাচন কর্মকর্তাদের সংখ্যা ও কেন্দ্রের সক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তুতিও নিতে হবে।