উপজেলা পর্যায়ে অধস্তন আদালতের সম্প্রসারণ নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবের সঙ্গে একমত হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, \"বিচারব্যবস্থার সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এ প্রস্তাব সময়োপযোগী।\"
সোমবার (৮ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমির দোয়েল হলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে চলমান আলোচনায় মধ্যাহ্ন বিরতিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি—এই কমিশন বা অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের কল্যাণেই গঠিত হয়েছে। তাই আদালত সম্প্রসারণের মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ সহজ করতে হবে। জেলা শহরে গিয়ে বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষের থাকা-খাওয়ার খরচসহ বিভিন্ন বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। এসব বিবেচনায় আমরা আদালতকে উপজেলা পর্যায়ে নেয়ার পক্ষে।”
বর্তমানে দেশের ২৩টি জেলায় ৪০টি চৌকি আদালত রয়েছে উল্লেখ করে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “এই চৌকি আদালতগুলোকে স্থায়ী আদালতে রূপান্তর করতে হবে। সেই সঙ্গে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সরঞ্জাম সরবরাহ করাও জরুরি।”
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপজেলা পর্যায়ে আদালত সম্প্রসারণে দুর্নীতি বাড়তে পারে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “দুর্নীতি যেকোনো স্তরে হতে পারে। তবে জনসচেতনতা ও নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব। জনগণকে সুশাসন ও সুবিচার দিতে হলে বিচারব্যবস্থাকে আরও জনগণের কাছে নিয়ে যেতে হবে।”
আজকের বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে আরও রয়েছে জরুরি অবস্থা ঘোষণা ও রাজনৈতিক পরিসরে নারীর প্রতিনিধিত্ব বিষয়ক প্রস্তাব। মধ্যাহ্ন বিরতির পর এ দুটি বিষয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু হবে।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে আজকের আলোচনায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, সিপিবি, এবি পার্টিসহ মোট ৩০টি রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছে।
\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ। সঞ্চালনায় ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সদস্য বদিউল আলম মজুমদার, ইফতেখারুজ্জামান ও মো. আইয়ুব মিয়া।





