ঢাকার উত্তরা দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভবনে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের অধিকাংশই ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
সোমবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় এক শোকবার্তায় নরেন্দ্র মোদী বলেন, “ঢাকায় একটি মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় তরুণ শিক্ষার্থীদের প্রাণহানির ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত। নিহতদের পরিবারগুলোর প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাই এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। এ দুঃসময়ে ভারত বাংলাদেশের পাশে আছে এবং সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত।”
ঘটনাটি ঘটে সোমবার দুপুর ১টা ৬ মিনিটে, যখন বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি এফটি-৭ বিজিআই মডেলের প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বঙ্গবন্ধু ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে। মাত্র ১২ মিনিট পর, ১টা ১৮ মিনিটে সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে বিধ্বস্ত হয়।
ফায়ার সার্ভিস নিশ্চিত করেছে, দুর্ঘটনায় অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১১ জনের মরদেহ সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ), ২ জনের জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে, ২ জনের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে, ২ জনের লুবনা জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড কার্ডিয়াক সেন্টারে এবং ১ জনের মরদেহ উত্তরা আধুনিক হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস, বিমান বাহিনী, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। পুরো এলাকা ঘিরে শোকের ছায়া নেমে আসে। আহতদের রক্তের প্রয়োজন মেটাতে স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে রক্ত দিতে এগিয়ে আসেন।
আহতদের মধ্যে বর্তমানে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ৭০ জন, উত্তরা আধুনিক হাসপাতালে ৬০ জন, সিএমএইচে ১৪ জন, লুবনা জেনারেল হাসপাতালে ১১ জন, কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে ৮ জন এবং উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ১ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় বিমানটি চালাচ্ছিলেন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলাম। সূত্র বলছে, সোমবার ছিল তার একক ‘সলো’ ফ্লাইট ট্রেনিংয়ের দিন, ফলে বিমানে তার সঙ্গে কোনো প্রশিক্ষক ছিলেন না।
বিমান দুর্ঘটনার তদন্তে এরইমধ্যে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।





