দক্ষিণ ইয়েমেনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহর পুনর্দখল করেছে সৌদি আরব-সমর্থিত সরকারি বাহিনী। সংযুক্ত আরব আমিরাত সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এসটিসি) কাছ থেকে হাজরামাউত ও আল মাহরা প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছে তারা। এতে সৌদি আরব ও ইউএইর মধ্যে বিদ্যমান কৌশলগত টানাপোড়েন আরও প্রকাশ্যে এসেছে।


\r\n

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের প্রেসিডেনসিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের (পিএলসি) প্রধান রাশাদ আল আলিমি এক বিবৃতিতে জানান, সৌদি-সমর্থিত ‘হোমল্যান্ড শিল্ড’ বাহিনী সীমান্তঘেঁষা এই দুই প্রদেশে স্বল্প সময়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তাদের দাবি, সব সামরিক ও নিরাপত্তা অবস্থান পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।


\r\n

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হাজরামাউতের রাজধানী ও গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মুকাল্লার নিয়ন্ত্রণ আবারও তাদের হাতে এসেছে। গত মাসে এসটিসি শহরটি দখল করেছিল। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সেখানে সৌদি বাহিনীর হামলার খবরও পাওয়া যায়। সরকারি সূত্রের দাবি, হাজরামাউতের সব জেলাই এখন সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে।


\r\n

অন্যদিকে আল মাহরা প্রদেশেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, এসটিসি বাহিনী সরে যাওয়ার পর হোমল্যান্ড শিল্ড বাহিনী প্রদেশটির সব জেলার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।


\r\n

ডিসেম্বরের শুরুতে হাজরামাউত ও আল মাহরা দখলের পর থেকেই দক্ষিণ ইয়েমেনে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। এই দুই প্রদেশ ইয়েমেনের প্রায় অর্ধেক ভূখণ্ড জুড়ে রয়েছে এবং সৌদি আরবের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত ভাগ করে নেয়, যা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


\r\n

বিশ্লেষকদের মতে, গত এক দিনে ইয়েমেনের রাজনৈতিক ও সামরিক বাস্তবতায় বড় পরিবর্তন এসেছে। সরকারি বাহিনী সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। এরপর রাজনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে সৌদি আরবে আলোচনার জন্য এসটিসিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।


\r\n

সংঘর্ষে বড় ধরনের প্রাণহানির খবরও এসেছে। এসটিসির এক কর্মকর্তার দাবি অনুযায়ী, শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া লড়াইয়ে তাদের অন্তত ৮০ জন যোদ্ধা নিহত, ১৫২ জন আহত এবং ১৩০ জন আটক হয়েছেন। সংগঠনটির পক্ষ থেকে সৌদি যুদ্ধবিমানের বিমান হামলার অভিযোগও তোলা হয়েছে।

\r\n

তবে সৌদি আরবের সংলাপ প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে এসটিসি। সংগঠনটি বলছে, এটি দক্ষিণ ইয়েমেনের জনগণের আকাঙ্ক্ষা রক্ষার একটি সম্ভাব্য সুযোগ।


\r\n

এদিকে হাজরামাউতের সাইউন শহরে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবন ফিরতে শুরু করেছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান চালু এবং নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রদেশটির গভর্নর নিরাপত্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর সাইউন বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন।


\r\n

তবে দক্ষিণের অন্যান্য এলাকায় উত্তেজনা পুরোপুরি কাটেনি। সরকার অভিযোগ করেছে, এসটিসি আদেন শহরে প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এতে রোগী ও তাদের স্বজনসহ অনেক সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়ছেন। সরকার এই পদক্ষেপকে সংবিধান ও রিয়াদ চুক্তির পরিপন্থি বলে উল্লেখ করেছে এবং অবিলম্বে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে।


\r\n

সরকারি সূত্রের মতে, হাজরামাউত থেকে এগিয়ে আদেনের দিকে অভিযান চালানোর প্রস্তুতিও নিচ্ছে সরকারি বাহিনী, যেখানে এসটিসির শক্ত ঘাঁটি রয়েছে।


\r\n

এর মধ্যে আদেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সীমিত আকারে ফ্লাইট চলাচল আবার শুরু হয়েছে। তবে বিমানবন্দর বন্ধ থাকার দায় নিয়ে সরকার, সৌদি আরব ও এসটিসির মধ্যে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য রয়েছে। একই সঙ্গে ভারত মহাসাগরীয় দ্বীপ সোকোত্রার সঙ্গে ফ্লাইট চলাচলেও সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।