ইসরায়েলের নাগরিকদের জরুরি পরিস্থিতিতে সরিয়ে নেওয়ার জন্য গ্রিসের কিছু দ্বীপ কেনার একটি প্রস্তাব দেশটির রাজনৈতিক মহলে আলোচনায় এসেছে। এতে পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের ভূরাজনীতিতে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে।

প্রস্তাবটি দিয়েছে ইসরায়েলের রাজনৈতিক জোট ব্লু অ্যান্ড হোয়াইট–এর এক প্রতিনিধি। দলটি সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেনি গ্যান্টজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। প্রস্তাবে জিউইশ ন্যাশনাল ফান্ডের অর্থ ব্যবহার করে বিদেশে জমি কেনার সম্ভাবনা যাচাইয়ের কথা বলা হয়েছে।

সম্প্রতি সংস্থাটির এক বোর্ড সভায় বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, ইসরায়েলের বাইরে একটি নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তোলা হতে পারে, যাতে যুদ্ধ বা বড় ধরনের সংকটে সাধারণ নাগরিকদের সেখানে সরিয়ে নেওয়া যায়।

এদিকে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা—বিশেষ করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে ইসরায়েলে উদ্বেগ বাড়ছে। জিউইশ ন্যাশনাল ফান্ডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিমনুটার বোর্ড সদস্য আভরি স্টেইনার বলেন, গ্রিসের জনবসতিহীন দ্বীপগুলোতে অবকাঠামো গড়ে তুলে সেগুলোকে জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

তবে প্রস্তাবটি জিউইশ ন্যাশনাল ফান্ডের ভেতরেই সমর্থন পায়নি। বোর্ডের অধিকাংশ সদস্য এটি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের মতে, বিদেশে জমি কেনা সংস্থাটির মূল কার্যপরিধির মধ্যে পড়ে না।

এর আগে ২০১২ সালেও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে গ্রিসের কিছু দ্বীপ লিজ বা কেনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল, তবে সেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়নি। সংশ্লিষ্টদের মতে, গ্রিসে প্রায় ৪০টি জনবসতিহীন দ্বীপ রয়েছে, যা ভবিষ্যতে এমন পরিকল্পনার জন্য বিবেচনায় আসতে পারে।

অন্যদিকে, অর্থনৈতিক চাপে থাকা গ্রিস সরকার অতীতে কিছু ছোট দ্বীপ দীর্ঘমেয়াদে লিজ দেওয়ার বিষয় বিবেচনা করেছিল। ফলে নতুন এই প্রস্তাব নিয়ে দেশটিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

সূত্র: ইয়েনি শাফাক