ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘর্ষে ইরানে এখন পর্যন্ত ১,০৬০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। গুরুতর আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় এই সংখ্যা ১,১০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৮ জুলাই) অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
সোমবার (৭ জুলাই) ইরানের শহীদ ও প্রবীণদের বিষয়ক ফাউন্ডেশনের প্রধান সাঈদ ওহাদি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “যুদ্ধে আমরা ইতোমধ্যে অনেক প্রাণ হারিয়েছি। আহতদের মধ্যে কিছুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, ফলে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।”
ইসরায়েলি বাহিনীর টানা ১২ দিনের বিমান হামলায় ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, সামরিক ঘাঁটি এবং পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। যদিও যুদ্ধকালীন সময়ে ইরান সরকার এসব ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করেছিল, যুদ্ধবিরতির পর ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ধীরে ধীরে প্রকাশ করছে তেহরান।
তবে সামরিক সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতি বা অবকাঠামোগত ধ্বংসাবশেষ বিষয়ে এখনো সরকারিভাবে কোনো পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ করা হয়নি।
ওয়াশিংটনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস (HRA) জানায়, চলমান যুদ্ধে ১,১৯০ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৪৩৬ জন বেসামরিক নাগরিক এবং ৪৩৫ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। এছাড়া, সংঘর্ষে ৪,৪৭৫ জন আহত হওয়ার তথ্যও দিয়েছে সংস্থাটি।
যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলেও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। ইসরায়েল এখনো সীমান্তবর্তী অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার রেখেছে, অন্যদিকে ইরান অভ্যন্তরীণভাবে ক্ষয়ক্ষতি সামাল দিতে ব্যস্ত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও পারমাণবিক ও সামরিক কাঠামোতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে, যা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।





