ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নেতৃত্বাধীন সরকারবিরোধী বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, অর্থনৈতিক সংকট ও নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নের প্রতিবাদে রাজধানী তেহরানসহ দেশব্যাপী হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে সরকারবিরোধী স্লোগান দিচ্ছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা হিসেবে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সরকারের নির্দেশে দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও আন্তর্জাতিক টেলিফোন যোগাযোগ বন্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিচার বিভাগ ও নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
দেশটির নির্বাসিত ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভি ভিডিওবার্তায় আন্দোলনকারীদের সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তেহরানের বাজারকেন্দ্রিক কর্মসূচিসহ আন্দোলন গড়ে তোলার সাহসিকতা প্রশংসনীয়। তিনি আন্দোলনকে সুশৃঙ্খল ও নিয়ন্ত্রিত রাখতে আহ্বান জানিয়ে প্রথমবারের মতো সরাসরি কর্মসূচির আহ্বান জানিয়েছেন।
রেজা পাহলভি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, আপনারা দেশের জনগণকে রক্ষা করতে সামরিক পোশাক পরেছেন। জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে ইতিহাস তৈরি করছে—আপনারা কি জনগণের পাশে দাঁড়াবেন নাকি সরকারের? তিনি আরও বলেন, প্রশ্ন এখন আর এই সরকারের পতন হবে কি না নয়, বরং কখন হবে তা।
ইরানের বিভিন্ন শহর ও গ্রামাঞ্চলেও বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। বাজার ও বিপণিবিতান বন্ধ রাখা হয়েছে আন্দোলনের সমর্থনে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, সহিংসতায় অন্তত ৪২ জন নিহত এবং ২,২৭০ জনের বেশি আটক হয়েছেন। ইন্টারনেটও সরকারি হস্তক্ষেপের কারণে বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
বিক্ষোভের সূত্রপাত গত মাসে তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারে ব্যবসায়ীদের আন্দোলন থেকে। ইরানি রিয়ালের অবমূল্যায়ন, মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব ও রাজনৈতিক-সামাজিক স্বাধীনতার সীমাবদ্ধতা আন্দোলনের মূল কারণ। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতি ছিল ৫২ শতাংশ। বর্তমানে এক মার্কিন ডলারের মূল্য প্রায় ১৪ লাখ রিয়াল।
সরকারপন্থি গণমাধ্যম জানাচ্ছে, বিক্ষোভকারীদের শনাক্ত করতে ড্রোন ব্যবহার করা হবে। তেহরান, লোরদেগান ও কেরমানশাহে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের হতাহতের খবরও পাওয়া গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট সতর্ক করেছেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের হত্যা করলে যুক্তরাষ্ট্র ‘চুপ থাকবে না’।





