ইরানের উপকূলীয় অঞ্চলে অবস্থিত ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি লক্ষ্য করে শক্তিশালী বাঙ্কার বিধ্বংসী বোমা ব্যবহার করে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার (১৮ মার্চ) সকালে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করার লক্ষ্যেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার জেরে ইরান এই প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করায় বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহে প্রভাব পড়ে।

মার্কিন বাহিনী জানায়, ইরানের উপকূলরেখায় সুরক্ষিত ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলোতে একাধিক ৫ হাজার পাউন্ড ওজনের গভীর ভেদকারী বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে। এসব ঘাঁটিতে থাকা জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছিল বলে দাবি করা হয়।

বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে ইরানের অবরোধে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয় এবং তেলের দাম বেড়ে যায়। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই ওয়াশিংটন সামরিক পদক্ষেপ নেয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটো জোটভুক্ত দেশগুলোকে এই অভিযানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানালেও বেশিরভাগ দেশ সাড়া দেয়নি। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মিত্রদের সহযোগিতা করলেও প্রয়োজনে তারা পাশে দাঁড়াচ্ছে না।

অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পক্ষে মত দিয়ে আসছিলেন। তবে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই সামরিক সিদ্ধান্ত তিনি নিজস্ব বিবেচনায় নিয়েছেন।

উল্লেখ্য, বাঙ্কার বিধ্বংসী বোমা মূলত মাটির গভীরে বা শক্তিশালী স্থাপনার ভেতরে থাকা লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসে ব্যবহৃত হয়। প্রতিটি বোমার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ লাখ ৮৮ হাজার মার্কিন ডলার।

সূত্র: এনডিটিভি