ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান শুরুর মাত্র চার দিনের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২০০ কোটি ডলারের সামরিক সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। রাডার ব্যবস্থা, যুদ্ধবিমান, নৌঘাঁটি ও কূটনৈতিক স্থাপনাসহ একাধিক স্থানে ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় এ বিপুল ক্ষতি হয়েছে।
তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড জানায়, আনাদোলু এজেন্সির সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী শনিবার হামলা শুরুর পর প্রথম চার দিনেই প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সবচেয়ে বড় ক্ষতির ঘটনা ঘটে কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটিতে। সেখানে স্থাপিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রারম্ভিক সতর্কতা রাডার ব্যবস্থা, যার মূল্য আনুমানিক ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কাতার কর্তৃপক্ষ রাডারটিতে আঘাতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এ ছাড়া কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভুলবশত গুলিবর্ষণে তিনটি স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। এতে ছয়জন ক্রু সদস্য প্রাণে বেঁচে গেলেও বিমানগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়। এগুলো প্রতিস্থাপনে আনুমানিক ২৮২ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে।
বাহরাইনের রাজধানী মানামায় যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরেও হামলা চালানো হয়। এতে দুটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ টার্মিনাল ও কয়েকটি বড় স্থাপনা ধ্বংস হয়। উন্মুক্ত গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি টার্মিনালের আনুমানিক মূল্য স্থাপনা ব্যয়সহ প্রায় ২ কোটি ডলার।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-রুয়াইস শিল্পাঞ্চলে মোতায়েন থাকা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি রাডার উপাদান ধ্বংসের দাবিও করা হয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্রে সেখানে হামলার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ধ্বংস হওয়া রাডার অংশটির আনুমানিক মূল্য ৫০ কোটি ডলার।
সব মিলিয়ে এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পদের প্রায় ১ দশমিক ৯০২ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে বলে হিসাব করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে অন্তত সাতটি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় আঘাত হেনেছে। এর মধ্যে রয়েছে বাহরাইনে পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর, কুয়েতে ক্যাম্প আরিফজান, আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি ও ক্যাম্প বুয়েরিং, ইরাকের এরবিল ঘাঁটি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলি বন্দর এবং কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি।
নিউইয়র্ক টাইমসের যাচাইকৃত ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, ইরাকের এরবিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামরিক স্থাপনাগুলোতে একাধিকবার হামলা হয়েছে। স্যাটেলাইট ছবিতে কয়েকটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি আগুন জ্বলতে থাকার দৃশ্যও ধরা পড়ে।
দুবাইয়ের জেবেল আলি বন্দরের স্যাটেলাইট ছবিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর একটি বড় ভবন থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। এটি আনুষ্ঠানিক মার্কিন ঘাঁটি না হলেও অঞ্চলে নৌবাহিনীর বহুল ব্যবহৃত বন্দরগুলোর একটি।
সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি সৌদি আরব, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক মিশনেও হামলার ঘটনা ঘটে।
সৌদি আরবের রিয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে দুটি ড্রোন আঘাত হানে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, এতে সীমিত অগ্নিকাণ্ড ও সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, কমপ্লেক্সের ভেতরে থাকা কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার কার্যালয়ও আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে।
কুয়েত সিটিতে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর দূতাবাস সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং অপ্রয়োজনীয় কর্মী ও তাদের পরিবারকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেট জেনারেলের পার্কিং এলাকায় সন্দেহভাজন একটি ড্রোন আঘাত হানে। এতে আগুন লাগলেও দ্রুত তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। কনস্যুলেট প্রাঙ্গণে আঘাতের চিহ্ন থাকলেও বড় ধরনের কাঠামোগত ক্ষতি হয়নি।





