যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর ‘কড়া নজর’ রাখছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরানের দিকে একটি বড় সামরিক শক্তি পাঠানো হচ্ছে, যা মূলত সতর্কতার জন্য। প্রয়োজনে ব্যবহার করা হবে।


বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) আলজাজিরার প্রতিবেদনে ট্রাম্প বলেন, “আমি চাই না কিছু ঘটুক, কিন্তু আমরা ইরানকে খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করছি। অনেক জাহাজ ওই অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে।” তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলে একটি ‘বিশাল’ নৌবহর ও বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপ পাঠানো হচ্ছে, যা কয়েক দিনের মধ্যেই পৌঁছাবে।


এর আগে মার্কিন গণমাধ্যমে বলা হয়, দক্ষিণ চীন সাগরে চলমান মহড়ার মাঝপথে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরী ও তার স্ট্রাইক গ্রুপকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে মোড় দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


ট্রাম্প আবারও উল্লেখ করেন, তার সামরিক হুমকির কারণে ইরান সরকার ৮০০-এর বেশি বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা থেকে বিরত রয়েছে। তিনি বলেন, ইরানের নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনায় বসতেও তিনি আগ্রহী।


তবে ইরান এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারের বিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কোনো পরিকল্পনা নেই। ইরানের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ওই বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ৩,১১৭ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ২,৪২৭ জন বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য।


সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি আশা করছেন ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালাতে হবে না। তবে সতর্ক করে বলেন, তেহরান আবার পারমাণবিক কর্মসূচি শুরু করলে যুক্তরাষ্ট্র ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে। তিনি ২০২৫ সালের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন বিমান হামলার কথাও উল্লেখ করেন, যেদিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধে অংশ নেয়।


অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, “আমাদের ওপর আবার হামলা হলে আমরা সম্পূর্ণ শক্তি দিয়ে পাল্টা আঘাত করব। এটি কোনো হুমকি নয়, বাস্তবতা। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়বে, যার প্রভাব পড়বে বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষের ওপর।”