চলমান ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে তেহরানের সামরিক সক্ষমতা ও অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে রাশিয়া ড্রোন, খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহ শুরু করেছে। পশ্চিমা গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, চলতি মাস থেকেই মস্কো ইরানকে ড্রোনের চালান পাঠাচ্ছে এবং মাসের শেষে পর্যায়ক্রমিক সরবরাহ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটি তেহরানের কাছে রাশিয়ার প্রথম মারণাস্ত্র চালান। এর আগে ক্রেমলিন ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য এবং স্যাটেলাইট চিত্রের মাধ্যমে সহায়তা দিচ্ছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সাল থেকে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য ইরানি নকশার ড্রোন তৈরি করলেও, এখন বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা পাল্টা ড্রোন সরবরাহ করে ইরানকে সমর্থন করছে।
এই সামরিক সরঞ্জামগুলো মূলত ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে এবং যুদ্ধের ময়দানে তেহরানের অবস্থান শক্তিশালী করতে ব্যবহার করা হবে। তবে ক্রেমলিনের একজন মুখপাত্র বলেছেন, অনেক ধরনের ‘ভুয়া খবর’ ছড়াচ্ছে, তবে ইরানি নেতৃত্বের সঙ্গে রাশিয়ার সংলাপ অব্যাহত রয়েছে। ড্রোন সরবরাহ স্বীকার না করলেও, মস্কো ও তেহরানের কৌশলগত সম্পর্কের গভীরতা প্রকাশ পাচ্ছে।
সাম্প্রতিক কালে কাস্পিয়ান সাগরে ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে ইসরায়েল যে হামলা চালিয়েছে, তার উদ্দেশ্য ছিল রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সামরিক ও লজিস্টিক সরঞ্জাম আদান-প্রদান ব্যাহত করা। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, কাস্পিয়ান রুট এই দুই দেশের মধ্যে পণ্য ও অস্ত্র স্থানান্তরের প্রধান মাধ্যম।
ইসরায়েলি বাহিনী মনে করছে, রাশিয়ার ড্রোন ও অন্যান্য কারিগরি সহায়তা ইরানকে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে টিকে থাকতে সাহায্য করবে, যা পুরো অঞ্চলের যুদ্ধের সমীকরণ পরিবর্তন করতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়া কেবল অস্ত্রই নয়, ইরানের ক্রমবর্ধমান মানবিক সংকট মোকাবিলার জন্য খাদ্য ও জরুরি ওষুধও পাঠাচ্ছে।
ইরান ও রাশিয়ার এই ক্রমবর্ধমান সহযোগিতা পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধের সময় ইরানের ড্রোন ব্যবহারের অভিযোগের পর, রাশিয়ার ড্রোন সরবরাহকে সামরিক বিশ্লেষকরা ‘পাল্টা বিনিময়’ হিসেবে দেখছেন।
রাশিয়ার এই সমর্থন এমন সময় এসেছে যখন ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে এবং হরমুজ প্রণালীসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক পথে অস্থিরতা বিরাজ করছে। মস্কোর পদক্ষেপ তেহরানের শাসনব্যবস্থাকে টিকে থাকার রসদ জোগানোর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি প্রভাব চ্যালেঞ্জ করার প্রচেষ্টা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
সূত্র: টাইমস অফ ইসরায়েল





